সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির মনোনয়ন পরিবর্তনের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি (সংশোধিত) সংবিধি, ২০১৯-এর ৭ ধারার বৈধতা এবং ওই মনোনয়ন পরিবর্তনের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর উল মতিন। আদালতে তিনি রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে দুই বছরের জন্য মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী তার দায়িত্বের মেয়াদ ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।
তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় আট মাস আগে, ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের সই করা এক আদেশে তার পরিবর্তে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে গভর্নিং বডির নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
এ সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর কলেজ কর্তৃপক্ষের অগোচরে সভাপতির পরিবর্তন এবং এতে স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।
এরপর ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের পক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও কলেজ পরিদর্শকের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মনোনয়ন পরিবর্তনের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। তবে কোনো সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কলেজ পরিদর্শক এবং সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, চলমান কমিটির মেয়াদ বহাল থাকা অবস্থায় ২৩ জুলাই জারি করা সভাপতির মনোনয়ন পরিবর্তনের আদেশ আইনসঙ্গত নয়। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি (সংশোধিত) সংবিধি, ২০১৯-এর ৭ ধারার বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই ধারার মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে গভর্নিং বডির সভাপতির মনোনয়ন পরিবর্তনের একক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক, স্বেচ্ছাচারী এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এছাড়া কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং দায়িত্বে থাকা সভাপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়েছে, যা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী। রিটে আরও বলা হয়, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করায় তার সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি (সংশোধিত) সংবিধি, ২০১৯-এর ৭ ধারা এবং ২৩ জুলাই জারি করা সভাপতির মনোনয়ন পরিবর্তনের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে আদালত ২৩ জুলাই জারি করা মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির মনোনয়ন পরিবর্তনের আদেশের কার্যকারিতা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।