রঙিন কাগজে সাজানো হয়েছিল বাড়ি, সামনে তৈরি করা হয়েছিল সুদৃশ্য গেট। বরযাত্রীদের আপ্যায়নে চলছিল বিশাল আয়োজন। বর আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন স্বজনরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি—খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে গেল ১৩ বছর বয়সি সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ। খুলে ফেলা হলো অভ্যর্থনা গেট।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিকসা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
বিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়া ওই শিশুর বাবা বাকপ্রতিবন্ধী এবং মা বর্তমানে সৌদি আরব প্রবাসী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জামালগঞ্জ উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে সোমবার দুপুরে ওই শিশুর বিয়ের দিন ধার্য ছিল। পরিবার পুরোদমে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও তাহিরপুর উপজেলা সদরের সামাজিক সংগঠন ‘স্বপ্নের সন্ধান যুব ফোরাম’-এর সদস্যরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। তারা জানতে পারেন, মেয়েটি গত বছর স্থানীয় একটি স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেছে।
বিষয়টি জানার পর তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আইনগত ব্যবস্থা নিতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ‘স্বপ্নের সন্ধান যুব ফোরাম’-এর পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিয়ের গেট ভেঙে ফেলা হয় এবং বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তাহিরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। সুদৃশ্য গেটটি খুলে দেওয়া হয়েছে এবং প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে স্বজনদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কনেপক্ষ দাবি করেছিল মেয়েটি প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে আগেই আদালতে বিয়ে করেছে, তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তা আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
‘স্বপ্নের সন্ধান যুব ফোরাম’-এর সাধারণ সম্পাদক সজিবুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি গত বছর সপ্তম শ্রেণিতে পড়েছে জানার পরপরই আমরা পুলিশকে জানাই। প্রশাসন ও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে একটি শিশু কম বয়সে সংসার ও দায়িত্বের বোঝা টানা থেকে রক্ষা পেল।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং বাল্যবিয়েটি বন্ধ করা হয়।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পাওয়ামাত্রই দ্রুত প্রতিনিধি পাঠিয়ে তা বন্ধ করা হয়েছে। উপজেলায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে।