Image description

জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শহীদ শাহরিয়ার খান আনাস হত্যা মামলার রায় প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের দাবি জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থাকা ভিডিওসহ বিভিন্ন আলামত বিবেচনায় নিয়ে আমরা আরও কঠোর শাস্তি প্রত্যাশা করেছিলাম।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ আনাসের চিঠির ফলক উন্মোচন ও শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এসব কথা বলেন।

 

শহীদ আনাসের নানা সাইদুল রহমান বাদল বলেন, যে ব্যক্তি আনাসকে গুলি করেছে, তার গুলির ভিডিও ফুটেজ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আনাসের মা-বাবা জমা দিয়েছেন। সবকিছু দেখার পরও এই রায় দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের তিন থেকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, আর পলাতক আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। প্রধান কৌঁসুলির (চিফ প্রসিকিউটর) সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি আপিল করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।

 

আনাসকে হারানোর স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যখন ছাত্ররা বলল, ‘আনাসের শরীর ভালো না, মিডফোর্ড হাসপাতালে আসেন’, তখনই বুঝেছিলাম, আমার আনাস আর নেই। আনাস দেশ ও জাতিকে মুক্তির একটি বার্তা দিয়ে গেছে। শুধু আনাস নয়, গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সব শহীদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ।

 

এ সময় শহীদ আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ অভিযোগ করে বলেন, আমরা এখনও হুমকির মধ্যে আছি। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। বর্তমান সরকারের কাছে এদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।

 

তিনি বলেন, আনাসের মতো হাজারো মানুষ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। অনেক পরিবার তাদের সন্তান হারিয়েছে, অনেকে গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, আবার অনেকে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের স্বপ্ন ছিল একটি ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। আমরা সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। অন্তর্বর্তী সরকারের দুই বছরেও দৃশ্যমান বিচার হয়নি। গ্রেপ্তার হওয়া অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা আর কোনো সন্তানের লাশ দেখতে চাই না। শহীদ আনাসসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। এ ছাড়া শহীদ আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ, নানা সাইদুর রহমান খান, ছোট ভাই সাফওয়ান খানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান আনাস মায়ের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার ভাড়া বাসা থেকে আন্দোলনে যোগ দিতে বের হন। পরে রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি নিহত হন।