বরিশালের বাকেরগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ গুরুতর দগ্ধ তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। তাদের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছে প্রশাসন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সযোগে দগ্ধ হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি ও নাতি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিমকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ছয়টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিম গুরুতর দগ্ধ হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানসহ বাকেরগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেয়।
এদিকে দগ্ধ ব্যক্তিদের দেখতে বিকেলে শেবাচিম হাসপাতালে যান বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহম্মেদ, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। চিকিৎসার স্বার্থে হাসপাতালের পরিচালকের পরামর্শে তাৎক্ষণিক ৩০ হাজার টাকা অনুদানসহ দগ্ধদের ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহম্মেদ জানান, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। দগ্ধদের বিনামূল্যে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার সব খরচ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন বহন করবে।
তিনি আরও জানান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মোবাইল ফোনে আহতদের চিকিৎসার সার্বিক খবরাখবর নিচ্ছেন এবং সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।