Image description

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নে নীরব ইমন নামে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে একাধিক আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন।

মৃত্যুর আগে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টে নীরব ইমন লেখেন, মানুষের মৃত্যু হয় কিছু কারণে, অকারণে। কিন্তু আমার মৃত্যু হবে একটা নারীর কারণে, তার ফ্যামিলির কারণে।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মালিরহাট এলাকার সামতালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারের সদস্যরা নীরব ইমনকে নিজ কক্ষের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

 

মৃত্যুর আগে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টে নীরব ইমন লেখেন, মানুষের মৃত্যু হয় কিছু কারণে, অকারণে। কিন্তু আমার মৃত্যু হবে একটা নারীর কারণে, তার ফ্যামিলির কারণে।

অন্য একটি পোস্টে তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মানসিক কষ্ট ও হতাশার কথা উল্লেখ করেন এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি কয়েকটি ব্যক্তিগত ছবিও প্রকাশ করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, নীরব ইমন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তিনি ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

পুলিশ জানায়, গত ১৫ জুলাই নীরব ইমনের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় জমা পড়ে। অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দেওয়া হতো। পরে ২৪ জুলাই উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং নীরব ইমন লিখিত অঙ্গীকারনামায় ভবিষ্যতে ওই কিশোরীকে কোনো ধরনের উত্ত্যক্ত, অনুসরণ, মানসিক হয়রানি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, কিছুদিন আগে ইমনের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের একটি অভিযোগ উঠেছিল, যা পরে সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং মৃত্যুর আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টসহ ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবরও পারিবারিক অভিমানের জেরে নীরব ইমন বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।