Image description

লক্ষ্মীপুরের হত্যা মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক (৩৯) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক রুকনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার রাতে বাদির আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুপুরে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন৷

এর আগে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।

আবু বকর ছিদ্দিক জেলার কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকনের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।

মামলা ও পুলিশ সূত্র জানায়, সালেহা বেগম নামে এক বৃদ্ধা নারীকে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আবু বকর চার্জশিটভুক্ত আসামি। ওই নারীকে গোপনে বিয়ে করেন তিনি। যদিও বিষয়টি সালেহা বেগমের সন্তানেরা মেনে নেননি। ৩০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে মো. সেলিম নামে ভাসমান এক ব্যক্তিকে দিয়ে তিনি ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে সালেহাকে হত্যা করান। 

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটায় সাহেলা বেগমের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতদের নামে মামলা করেন। কমলনগর থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করে। সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেলিম স্বীকার করেন, সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গলা টিপে অচেতন করেন তিনি। পরে তাকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। 

সেলিম আরও স্বীকার করেন, সালেহা বেগমের সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়েছে। জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে আবু বকর ৩০ লাখ টাকা নেন। কিন্তু জমি কিনে না দিয়ে উল্টো আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আবু বকর ছিদ্দিক ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সালেহাকে হত্যার জন্য সেলিমকে ভাড়া করেন। 

সেলিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে থানা পুলিশ সেলিম এবং আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়।

আসামি সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। 

বাদীর আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, চার্জশিটভূক্ত দ্বিতীয় আসামি আবু বকর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। হত্যা মামালটি বিচারাধীন। 

ভিকটিম সালেহা বেগমের ছেলে মো. শরীফ উদ্দিন ও মো. আরিফুল ইসলাম বললেন, আসামি আবু বকর ছিদ্দিক জামায়াতের রাজনীতি করলেও লম্পট প্রকৃতির। এ পর্যন্ত সাতটি বিয়ে করেছেন। অর্থের লোভে পড়ে আমাদের অজান্তে আমাদের মাকেও বিয়ে করেন। একপর্যায়ে ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাড়াটে লোক দিয়ে আমাদের মাকে হত্যা করিয়েছেন। আমরা ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি। এ দুই আসামির যাতে মৃত্যুদণ্ড হয়।