Image description

আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রতিচ্ছবি বর্তমান সরকারের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। আগের ফ্যাসিস্ট যা করেছে, বর্তমান সরকারও তাই করছে। রোববার (২ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টির আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সরকারের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, ওরা যেমন বিরোধী দল-মতকে দমন করার জন্য ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও বলপ্রয়োগের আশ্রয় নিয়েছিল, আপনারা সবগুলো ইতোমধ্যে নিয়ে ফেলেছেন।

সব কিছুর বিনিময়ে জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই এসেছে মূলত বৈষম্যকে মুগুরের আঘাত দেওয়ার জন্য। বাংলাদেশে বৈষম্য আর চলবে না। এখন যারা ক্ষমতায় গিয়ে বৈষম্য করছেন, মাশুল তাদেরকেই দিতে হবে।

সরকারের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা বলেছিলেন গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে। ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ বলার পর এখন আপনারা জনগণের এই অভিপ্রায়কে অপমান করছেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারি দল সাড়ে ১৭ বছর আমাদের মতোই মজলুম ছিল। আমি তাদের একবার অনুরোধ করব, জাতির ওপর যে জুলুমের পাহাড় নেমে এসেছিল, তার ক্ষেত্রটা কেন ও কীভাবে প্রস্তুত হয়েছিল তারা যেন একবার সেটা চিন্তা করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছিল দুটি মৌলিক কারণে। একটা ছিল বৈষম্য, আরেকটা ছিল ভোটে জনগণের রায়কে সম্মান না দেওয়া। এখন হুবহু তাই দেখা যাচ্ছে। জনগণের ভোটকে সম্মান করা হচ্ছে না। জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। কিন্তু জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে। এই যে জনগণের ভোটকে অস্বীকার করা হয়েছে, জনগণ এর প্রতিবাদে রাজপথে নামলে তখন আর টিকে থাকতে পারবেন না।

সর্বত্র দলীয়করণ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যিনি আপনাদের দলের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করেছেন, তাকে আপনারা নির্বাচন কমিশনের মতো একটা নিরপেক্ষ জায়গায় বসিয়েছেন। আপনার উদ্দেশ্য কী সেটি জনগণ অনুমান করতে পারছে।

আওয়ামী লিগ সরকারের আমলে সংঘটিত নির্বাচনগুলো জাতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো সরকার যদি জনগণের অভিপ্রায় সম্মান করে চলে, তাহলে সেই সরকার মানুষের মনোজগতে শক্ত আসন করে নিতে পারে। আর মানুষের অভিপ্রায়কে যদি কোনো সরকার অসম্মান করে চলে, জনগণ অন্তর থেকে সেই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করে।

সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলী আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, স্বৈরাচারী হাসিনাকে কিছু সাংবাদিক তোষামোদ করে কথা বলত। এখন আবার কিছু তোষামোদকারী সৃষ্টি হয়েছে যাদেরকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিগত ৫৫ বছর জনগণ প্রতারিত হয়েছে। ন্যায় বিচার পায়নি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে অলী আহমেদ বলেন, সংস্কার করবেন বলে আপনি জনগণের সাথে যে ওয়াদা করেছেন, সেই সংস্কারগুলো করেন। দেশ পরিচালনা করেন আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু জনগণের সাথে ওয়াদা করে সেই ওয়াদা রক্ষা করবেন না, জনগণকে ধোঁকা দিবেন, জনগণ প্রতারিত হবে— সেটি আমরা মেনে নিতে পারি না, পারবো না।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান।