Image description

ব্যবসা কিংবা ট্যুরিস্ট (বি-২) ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাইলে এবার আরও কঠোর শর্তের মুখে পড়তে হবে বাংলাদেশিদের। গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ঘোষণা করেছে, এতদিন পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে স্থায়ী করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এর আওতায় বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের নির্দিষ্ট ব্যবসা (বি-১) ও ট্যুরিস্ট (বি-২) ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমানো। রয়টার্স ,টাইমস অব ইন্ডিয়া ,সিএনএন।

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, এটি কোনও নতুন ভিসা ফি নয়। আবেদনকারী ভিসার সব শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে কেউ ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে সেই অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে। একই সঙ্গে বন্ড জমা দিলেই ভিসা পাওয়া যাবে–এমনও কোনও নিশ্চয়তা নেই। ভিসা দেওয়া হবে কেবল প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাইয়ের পর।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের তালিকায় থাকা ৫০ দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, ভুটান, বতসোয়ানা, বুরুন্ডি, কেপ ভার্দে, কম্বোডিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কোট দিভোয়ার, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ইথিওপিয়া, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, গ্রেনাডা, গিনি, গিনি-বিসাউ, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লেসোথো, মালাউই, মৌরিতানিয়া, মরিশাস, মঙ্গোলিয়া, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, সেশেলস, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তিউনিসিয়া, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে অতীতে ভিসা ওভারস্টে বা নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেই এই নীতি প্রযোজ্য হবে। কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ঝুঁকি বিবেচনা করে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।

ভিসা বন্ড কর্মসূচিটি প্রথমে গত বছরের আগস্টে পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে চালু হয়েছিল। তখন বন্ডের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। নতুন স্থায়ী নীতিতে সর্বোচ্চ সীমা ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করা হয়েছে এবং আগের ৫ হাজার ডলারের স্তরটি বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তাই কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে নতুন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। অভিবাসন ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এত বড় অঙ্কের বন্ড উন্নয়নশীল ও নিম্ন আয়ের দেশের বৈধ ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বড় আর্থিক বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাঁদের মতে, এই নীতি বৈধ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও অভিবাসন আইন কার্যকর করতেই নেওয়া হয়েছে এই পদক্ষেপ ।