Image description

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির আটার একটি অংশ আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদেরকে কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার এবং ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।

 

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।

স্থানীয় সূত্র ও খাদ্য বিভাগ জানায়, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর নির্বাচনি এলাকার আওতাধীন কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলায় বিশেষ ওএমএস কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিদিন দুই টন আটা ও দুই টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিতে একজন সুবিধাভোগী নির্ধারিত মূল্যে পাঁচ কেজি আটা ও পাঁচ কেজি চাল কিনতে পারেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন ৪০ বস্তা আটা বরাদ্দ থাকলেও বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত মাত্র ২০ বস্তা আটা রাখা হতো। এতে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা না পেয়েই ফিরে যেতেন। গত ২৭ জুলাই কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে ৪০ বস্তার পরিবর্তে ২০ বস্তা আটা দেখতে পেয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা... সবাই মিলেমিশে খাই...ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলেমিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।’

 

ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং খাদ্য অধিদপ্তর অভিযোগের তদন্ত শুরু করে।

 

তদন্তে উঠে আসে, আটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সাদিয়া ফ্লাওয়ার মিলস প্রতিদিন ৪০ বস্তা আটা সরবরাহ করেছে বলে দাবি করেছে।

 

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম জানান, বিক্রির আগের দিন নিজস্ব পরিবহনে নির্ধারিত পরিমাণ আটা বিক্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন ৪০ বস্তা আটা বুঝে নিয়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের কার্যালয় ও মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।