Image description

মাত্র ১৬ বছর বয়স। চোখে ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কিন্তু রাজনৈতিক সংঘর্ষের এক আঘাতে সেই স্বপ্নের আলো নিভে গেছে। হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে হামলার ঘটনায় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরী বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ। বিষয়টি নিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি স্যোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারী অনেককেই সমালোচনা করে পোস্ট দিয়েছেন। অন্যদিকে হামলার ঘটনায় নিজ দলের অনুসারীদের প্রশংসা পাচ্ছেন হামলাকারী ও অভিযুক্ত ছাত্রদল সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন অনি।

জানা যায়, এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার দিন কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। অনি নিজেও সেই কর্মসূচি শেয়ার করে বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এদিকে আলিফের চোখ হারানোর ঘটনায় হামলাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন অনেকে। মো. শিমুল নামে ফেসবুক পোস্টে এক সমালোচনাকারী বলেন, ‘যে হামলা করছে, দেশের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের মধ্যে যারা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেছে তাদের আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।’ সোহানুর রহমান নামে একজন পোস্ট দেন, ‘লিখে রাখুন, পুরষ্কার হিসেবে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক করা হবে।’

এনসিপি নেতা সারজিস আলম লিখেছেন, যে সন্ত্রাসীর হামলায় আমাদের ভাই আলিফের একটি চোখ সারাজীবনের জন্য কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার নাম- নাজমুল হাসান অনি সদস্য সচিব, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রদল। বিচার কি হবে তারেক রহমান? 

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে নিজাম উদ্দিন নামে একজন লিখেন, ‘নাসীরুদ্দীন, নাহিদ, সারজিস, বিএনপির অতিউৎসাহী কর্মী আজ প্রশ্ন একটাই—দায় কে নেবে..? বক্তৃতায় আগুন, মাঠে উত্তেজনা, আর শেষে রক্ত ঝরে সাধারণ মানুষের। রাজনীতিবিদরা বিবৃতি দেন, কিন্তু ক্ষত নিয়ে বাঁচে নিরীহ মানুষ।’

এদিকে ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরীর চোখে হামলার ঘটনায় প্রশংসাও পাচ্ছেন ছাত্রদল নেতা অনি। আলিফের ওপর অনির হামলার একটি ছবি ফেসবুকে তাকে ট্যাগ করে পোস্ট দিয়েছেন অনিক দাস অনল নামের একজন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নাজমুল হোসেন অনি বন্ধু তুই তো ভাইরাল..মাইরটা কিন্তু সেরা দিছিলি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সমর্থিত জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা লিখেছেন, ‘আপনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কথা বলবেন আর জনগণ আপনাকে ছেড়ে দিবে? আপনি তো রাজনীতি করার অধিকার ই রাখেন না। লেইম!’ 

Education

 

May be an image of one or more people and text that says 'YOU ARE NOT ALONE WE ARE WITH YOU নাজমুল হোসেন অনি 8.9K followers 516 following *শিক্ষা *ঐক্য *প্রগতি Digital creator Habiganj সদস্য সচিব, Brindaban Govt College Habiganj Message + Follow Add friend বিগঞ্জ সদর খানা ছাত্রদ। JK&HKHigh @JKkHKHthSsbo School,Habiganj Sadar,Sylhet,Bangladesh'
ফেসবুকে নিজের পরিচয় হিসেবে সদস্য সচিব, হবিগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদল হিসেবে লিখেছেন অনি

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ শেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপি এ হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপিকে দায়ী করেছে। পরে শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের হলে আরও এক দফা সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত হন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চৌধুরী।

এদিন রাতেই হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। গতকাল ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে আলিফের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার সফল হলেও আহত চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

চিকিৎসকের ভাষ্য, গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত চোখের রেটিনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গঠন সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিটি স্ক্যানেও চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টি দেখা গেছে। তাই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গঠন মেরামত করা গেলেও ওই চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। চোখের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা থাকে। বিদেশে নেওয়া হলেও চিকিৎসা পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য হবে না এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলিফ দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে একজন। তার বাবা অসুস্থ এবং মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন। তিনি হবিগঞ্জের একটি স্থানীয় স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।