Image description

প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। গত ২৭ মে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তদন্ত ও আপিল প্রক্রিয়া শেষে তিন শর্তে সোমবার (২৭ জুলাই) লাইসেন্স পুনর্বহাল করা হয়।

মঙ্গলবার থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগসহ সব ধরনের চিকিৎসাসেবা আবারও চালু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুনরায় শুরুর তিন দিনেই বহির্বিভাগে দুই হাজারের বেশি রোগী সেবা নিয়েছেন। হাসপাতাল চালুর প্রথম দিনেই ৬০৭ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসছেন। বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ, ডায়ালিসিসসহ সব ধরনের চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চালুর প্রথম দিন মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ৬০৭ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। স্ট্রিম ছবিচালুর প্রথম দিন মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ৬০৭ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। স্ট্রিম ছবি

মানিকগঞ্জ থেকে ছেলেকে চিকিৎসা করাতে আসা রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এসেছি। এখানের ডাক্তার ও নার্সদের আচরণ খুব ভালো। চিকিৎসার মানও ভালো, আবার খরচও তুলনামূলক কম। আবার চালু হওয়ায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের উপকার হয়েছে।’

আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভারত ও নেপাল থেকেও অনেক শিক্ষার্থী চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়ন ও ইন্টার্নশিপ করেন। হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের পর তাদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

ভারতের কাশ্মীর থেকে আসা ইন্টার্ন চিকিৎসক জাহিমা বলেন, ‘লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পর আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কীভাবে ইন্টার্নশিপ শেষ করব, সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। আবার চালু হওয়ায় আমরা রোগীদের সেবা দিতে দিতে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে পারব। সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’

যেভাবে ফিরল লাইসেন্স

গত সোমবার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে। এতে জানানো হয়, গত ১৫ জুলাই সরেজমিনে তদন্ত কমিটির দাখিল করা সন্তোষজনক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আপিল বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে কার্যক্রম পরিচালনায় তিনটি শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে—প্রথমত, ১৯৮২ সালের দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশের সব নির্দেশনা মেনে চলতে হবে; দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয়সংখ্যক ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে; এবং তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে শর্ত লঙ্ঘন হলে সরকার যেকোনো সময় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহেদ হোসাইন জানান, সরকারের নির্দেশ মেনে প্রতিটি ওয়ার্ডে ভেন্টিলেশন, অক্সিজেন সরবরাহ ও সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স পুনর্বহালের ফলে দুশ্চিন্তা কেটেছে উল্লেখ করে তিনি সরকারের তিন শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলে রোগীদের শতভাগ সেবা দেওয়ার কথা জানান।