Image description

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে—হবিগঞ্জে বিএনপি ও এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) সংঘর্ষের সময় চোখে আঘাত পেয়ে আহত হওয়া আলিফ নামের এক তরুণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান। ছবিটিতে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আলিফের শয্যাপাশে দেখা যায়।

তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলিফের পাশে জামায়াত আমীরের উপস্থিতির এই ছবিটি বাস্তব কোনো দৃশ্য নয়; বরং এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি ও সম্পাদিত করা একটি ছবি।


মূল ছবি ও জালিয়াতির উৎস

ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ চালানো হলে, গত ২রা জুন জাতীয় দৈনিক ‘নয়া দিগন্ত’-এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরিবারকে সান্ত্বনা বিরোধীদলীয় নেতার’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জামায়াত আমীর কর্তৃক রামিসা নামের এক শিশুর অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার মূল ছবিটি ব্যবহৃত হয়েছিল।

নয়া দিগন্তে প্রকাশিত সেই মূল ছবিটির সাথে বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ছবির গভীর মিল পাওয়া যায়। মূল ছবিতে উপস্থিত জামায়াত আমীর, পাশে থাকা চিকিৎসক এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের দাঁড়ানোর ভঙ্গি ও অবস্থান ভাইরাল ছবিটির সাথে হুবহু মিলে যায়। অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয় যে, রামিসার বাবাকে দেখতে যাওয়ার সেই পুরোনো ছবির ওপর এআই প্রযুক্তির কারসাজি চালিয়ে অসুস্থ ব্যক্তির মুখের স্থানে আহত আলিফের অবয়ব বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার সাথে হবিগঞ্জের সংঘর্ষ বা আহত আলিফের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

এআই সনাক্তকরণ টুলের বিশ্লেষণ

ছবিটির ডিজিটাল কারসাজি নিশ্চিত হতে এআই শনাক্তকরণ টুল ‘Hive detect’ এ ছবিটিকে বিশ্লেষণ করা হয়। কারিগরি যাচাই শেষে টুলটি নিশ্চিত করে যে, ছবিটির মূল কাঠামোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদিত ও পরিবর্তন করা হয়েছে।

সার্বিক তথ্য ও কারিগরি বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ‘হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে চোখে আঘাত পাওয়া আহত আলিফের পাশে দাঁড়িয়েছেন জামায়াত আমীর ড. শফিকুর রহমান’ দাবিতে প্রচারিত ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। ২রা জুনে প্রকাশিত একটি ভিন্ন ঘটনার হাসপাতালের ছবিতে জামায়াত আমীরের উপস্থিতি থেকে অবয়ব নিয়ে এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে।