Image description
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলার জবাব ইরানকে কঠোরভাবে দেওয়া হবে এবং তারা এর জন্য ‘চরম মূল্য’ দেবে।
 
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওদেরকে পিটিয়ে শায়েস্তা করা হবে। আমরা জোরালো হামলা চালাব। ওদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।
 
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরানের ছোড়া সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। 
 
‘অপ্রত্যাশিত হামলা’, প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য কয়েক মিনিট সময় পেয়েছিল সেনারা
 
ট্রাম্প জানান, জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি ছিল একটি ‘অপ্রত্যাশিত হামলা’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসার পর মার্কিন সেনাদের হাতে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য মাত্র কয়েক মিনিট সময় ছিল।
 
তিনি বলেন, হামলার সময় তিনি এমন ভিডিও দেখেছেন, যেখানে মার্কিন সেনারা তাৎক্ষণিকভাবে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর অবস্থান শনাক্ত করে একে একে সেগুলো প্রতিহত করছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রও লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি। 
 
সেন্টকমের দাবি, সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে
 
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরানের ভূখণ্ড থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। 
 
 
 
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম এটিকে ‘অপ্রত্যাশিত হামলার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করে। 
 
যদিও সেন্টকম হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেনি, তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর লক্ষ্য ছিল জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি।
 
ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ‘ক্যানসার’ বললেন ট্রাম্প
 
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সম্প্রতি ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলারও পক্ষে অবস্থান নেন।
 
তিনি দাবি করেন, ওই হামলা ইরাক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালনা করা হয়েছে। 
 
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে “বিশ্বের জন্য একটি ক্যানসার” বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র চাপ অব্যাহত রাখবে।
 
উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক আলোচনা চলবে
 
কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা বন্ধ করা হবে না।
 
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও মার্কিন প্রতিনিধিরা তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
 
 
সময়ের আলো