রাজধানীর মিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য, জমি ব্যবসা এবং কমিশনার নির্বাচন ঘিরে বিরোধ চলছিল দুটি পক্ষের মধ্যে। কমিশনার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মিরপুর থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান বাবু। একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন যুবদলের আরেক নেতা, তার নামও হাফিজ। একসময় তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দিতেই ভাড়া করা হয়েছিল শুটার।
গত শুক্রবার রাতে মিরপুর-১৩ নম্বরে গুলিতে নিহত হন যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ। একাধিক সূত্রের দাবি, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন না তিনি। টার্গেট ছিলেন হাফিজুর রহমান বাবু। তবে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রাণে বেঁচে যান তিনি। গুলিতে নিহত হন ইউসুফ।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে চারজন। এর মধ্যে গতকাল মাগুরা থেকে জিয়ারুল মোল্লা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে হামলার আগে ঘটনাস্থল রেকি করা নাহিদ হাসান ওরফে মেহেদী হাসান এবং সাফিন ছৈয়াল ওরফে সাফিন আহাম্মেদকেও আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। অন্যদিকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন শ্যুটার চঞ্চল মোল্লা। তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রায় এক মাস আগে হাফিজুর রহমান বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঝিনাইদহ থেকে চারজন ভাড়াটে শুটারকে আনা হয় ঢাকায়। মিরপুর-১০ নম্বরের একটি আবাসিক হোটেলে রাখা হয় তাদের।
ঘটনার রাতে ওপেক্স গার্মেন্টসের সামনে অনুসারীদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন হাফিজুর রহমান বাবু। এ সময় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা কয়েকজন ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান ইউসুফ। এরপরই তারা অস্ত্র বের করে হামলা চালায়। চঞ্চল মোল্লা খুব কাছ থেকে ইউসুফের বুকে গুলি করলে তিনি লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ হন পথচারী নালাম সরদার (৪৫) ও মনির হোসেন (৩২)। তারা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে চঞ্চল মোল্লাকে অস্ত্রসহ ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ইউসুফের। ঘটনার পর নিহতের ভাই মাসুদ রানা বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় চঞ্চল মোল্লা, জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুল মোল্লা ও হাসানকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা হাফিজুর রহমান বাবুর কর্মী সুজন বলছিলেন, ‘ইউসুফ ভাই সন্দেহজনক কয়েকজনকে দেখিয়ে আমাদের সতর্ক করেন। আমিও হাফিজুর ভাইকে ফোন করে বলি, এখানকার পরিস্থিতি ভালো না। তখন ভাই আমাদের ওদের ধরতে বলেন।’
‘আমরা ধাওয়া করলে তিনজন দৌড় দেয়। ১ নম্বর রোডের কাছে তাদের আটকে কারণ জানতে চাই। এ সময় একজন কোমর থেকে অস্ত্র বের করার চেষ্টা করলে ইউসুফ ভাই তাকে জাপটে ধরেন। তখন চঞ্চল খুব কাছ থেকে ইউসুফ ভাইকে গুলি করে। এরপর আমার দিকে দুই রাউন্ড এবং হাফিজুর ভাইয়ের দিকেও দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে দুই পথচারীর গায়ে লাগে’, যোগ করেন তিনি।
গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার রাকিব খান আগামীর সময়কে জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান শুটারসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার হত্যার মূল কারণ হিসেবে জানিয়েছে।