সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অতীত কার্যক্রম সরকার যাচাই-বাছাই করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, জনগণের দাবি অনুযায়ী মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বা ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালীন দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সরকার চায় না অন্যায়ভাবে কেউ কষ্ট পাক। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি জানান, সংবিধানে যেভাবে নির্দেশনা রয়েছে, সরকার সেভাবেই এগোবে এবং এ ব্যাপারে দেশবাসীকে সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের দুই-তিনটি বাজেটের সমান।’
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন,’ খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তা করতে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে “মহারাজ” নামক এক ব্যক্তির শাসনামলে এলজিইডি বিভাগে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ কেবল কাগজে-কলমে দেখিয়ে লুটপাট করা হয়েছে।’
জুলাই অভ্যুত্থানের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’ বর্তমানে মিথ্যা মামলার সংখ্যা অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনজীবী হওয়ার কোনো শর্টকাট পথ নেই, প্রতিদিন শিখতে হয়।’ নতুন আইনজীবীদের টাকার পেছনে না ছুটে মানুষের সেবা করার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মেধা ও শ্রম দেওয়ার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘যদি নিজের দলের কেউও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তবে আইনজীবীদের উচিত হবে তার প্রতিবাদ করা।’
অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন। এতে আইনজীবীদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা এবং পেশাগত সততা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।