মতিঝিলে মেট্রো স্টেশনের কাছে সড়কে পাওয়া ছাতার ভেতর থেকে উদ্ধার ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
গতকাল সন্ধ্যার পর সেখান থেকে বোমা উদ্ধারের পর আজ শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এর পেছনে কারা জড়িত বা উদ্দেশ্য কী ছিল তা শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জানতে চাইলে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশীদ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, পুলিশ আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। অন্যদিকে, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, ডিবি ও র্যাব যৌথভাবে ঘটনাটি তদন্ত করছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ খবর পায়, ওই এলাকায় একটি ছাতার মধ্যে আলো জ্বলছে। খবর পেয়ে ওই এলাকায় তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে পুলিশ।
পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেখানে গিয়ে ছাতার ভেতর আইইডি খুঁজে পায়। পরে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এ ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে আজ শনিবার অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মির্জা মোহাম্মদ মুক্তা।
আজ সন্ধ্যায় উপকমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, 'তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন এবং বেশ কিছু ক্লু ধরে এগোচ্ছেন। তবে প্রকাশ করার মতো এখনো পর্যাপ্ত অগ্রগতি হয়নি।'
এজাহারে বলা হয়, শুক্রবার সন্ধ্যায় উল্টো রথযাত্রার সময় ডিএমপির মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের এক সার্জেন্ট দায়িত্ব পালনের সময় একটি ছাতা থেকে আলো বের হতে দেখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ডিএমপি কন্ট্রোল রুমকে বিষয়টি জানান।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে এসআই মুক্তাসহ পুলিশ সদস্যরা মেট্রো স্টেশনের জেনারেটর রুমের পাশে পৌঁছান এবং এলাকাটি ঘিরে ফেলেন।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সেদিকে এগোলে পুলিশ 'শর্ট সার্কিট' হয়েছে জানিয়ে তাদের অন্য পথে ঘুরিয়ে দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
শোভাযাত্রাটি শাপলা চত্বর পার হয়ে স্বামীবাগ আশ্রমের দিকে চলে যাওয়ার পর ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইইডিটি নিষ্ক্রিয় করেন।
এ সময় স্প্লিন্টারের আঘাতে মিরাজ আহমেদ (৩৩) নামে এক পথচারী আহত হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ হিসেবেই ডিভাইসটি সেখানে রাখা হয়েছিল।
সিটিটিসির একাধিক কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এ ঘটনার পেছনে উগ্রবাদী কোনো গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত মিলছে।
এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'উল্টোরথের শোভাযাত্রাকে লক্ষ্য করেই এটি সেখানে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের আগেই ধরা পড়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।'
তবে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ ঘটনায় দায়ীদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য বলা এখনই সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, 'এজাহারে উল্লেখ রয়েছে যে যেখানে আইইডিটি পাওয়া গেছে সেটি রথযাত্রার রুট ছিল। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটিকে লক্ষ্য করেই ডিভাইসটি রাখা হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না।'
বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সূত্র জানায়, উদ্ধার আইইডিতে একটি বৈদ্যুতিক সার্কিট এবং ব্যাটারি ছিল। ধাতব পাইপের ভেতরে প্রায় এক থেকে দেড় কেজি সালফার এবং স্প্লিন্টারের জন্য প্রচুর পরিমাণে ছোট ছোট লোহার বল (বিয়ারিং বল) ছিল।
ছাতাটির বোতামে চাপ দিলেই ডিভাইসটি যেন বিস্ফোরিত হয়, এমন করে এটি তৈরি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সূত্র।