ফ্যাল-ফ্যাল চোখে ছেলের দিকে তাকান প্রিয় বাবা। তার ইচ্ছে থাকলেও সন্তানকে বাঁচাতে আজ কিছুই করতে পারছেন না তিনি। কান্নাও এখন যেন স্তব্ধ। নিজের অসুস্থতা ভুলে সন্তানের খোঁজখবর নিচ্ছেন তিনি। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্যের দেখা মিলল গৌরীপুরে। বাবা আবুল হাসিম (৭০) ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত আর তার বড় ছেলে দিলোয়ার হোসেন লিটন (৩৯) ক্যানসারে আক্রান্ত। অর্থাভাবে মিলছে না চিকিৎসাও। তাদের বাড়ি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের গাভীশিমুল গ্রামে।
সিএনজি চালিয়ে স্ত্রী, দুই ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে হাসিখুশিতে কাটছিল সুখের সংসার। তেমন সঞ্চয় না থাকলেও ঋণের বোঝা ছিল না। ঝুপড়ি ঘর হলেও সেখানে ছিল আনন্দের ভুবন। বড় মেয়ে জিনিয়া আফরিন গাভীশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে, ছেলে জাহিদ হাসান মাহিম মাদ্রাসায় ২য় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ছোট ছেলে মাহমুদুল হাসান জিহাদের বয়স ৩ বছর।
দিলোয়ার হোসেন লিটনের স্ত্রী জায়েদা আক্তার জানান, সৎসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই আজ দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত। এ পর্যন্ত ৭টি কেমো দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম ও একই হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের (ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র) আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পাঠানের তত্ত্ববাবধানে তার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।
তিনি জানান, মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু ছাড়া আর কোনো সহায়-সম্পদ নেই। ইতোমধ্যে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং নিজের যা ছিল সব শেষ করে দিয়েছি। এখন সন্তানদের মুখে তিনবেলা খাবার দেব সেইটুকু সামর্থ্যও নেই। চিকিৎসা চালালে আরও ৪-৫ লাখ টাকা প্রয়োজন।
ছেলেকে বাঁচাতে যখন পুরো পরিবার দিগ্বিদিক ছুটছে ঠিক তখনই অসুস্থ হয়ে পড়েন দিলোয়ার হোসেন লিটনের বাবা আবুল হাসিম। ৭ জুলাই চিকিৎসকরা জানান, ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত তিনি। ছেলের ক্যানসারের পর বাবার ব্রেনে টিউমার শুনে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো পরিবার। তিনি এক সময় দর্জি পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। কর্মের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের গৌরীপুর উপজেলা শাখার কার্যকরী সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শহীদুল্লাহ জানান, বাবা-ছেলের চিকিৎসার জন্য আমরা সামর্থ্যনুযায়ী সহযোগিতা করছি। সরকার, বিত্তবান মানবিক মানুষ ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ যদি এগিয়ে আসেন, হয়তো তাহলে বাবা-ছেলের চিকিৎসা কার্যক্রমটা চলবে। অর্থাভাবে যেন চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ না হয়ে যায়, সেই জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।