শনিবার (২৫ জুলাই) ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ‘‘চট্টগ্রাম উপজেলা জামাতের আমীর প্যান্টের ভিতরে করে কোটি টাকার ইয়াবা পাচার।’’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীপন্থী এবং বিএনপিপন্থী বিভিন্ন একাউন্ট থেকে এই দাবি ছড়ানো হচ্ছে। দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে, এখানে ও এখানে।
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামীর নেতা নন। বরং তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের টেকনাফ উপজেলার বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক।
প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড সার্চ করে চ্যানেল২৪ এর আঞ্চলিক ফেসবুক পেইজ চট্টগ্রাম ২৪ এর একটি প্রতিবেদনে একই ফ্রেমের ভিডিও খুঁজে পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনের ক্যাপশন ছিল, ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা এখন করেন ইয়াবার ব্যবসা! পায়জামার ফিতা খুলতেই বেরিয়ে এলো সাড়ে ৪ হাজার ইয়াবা!
বাংলা নিউজ২৪ এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘কক্সবাজারের ইনানী বিচে সাড়ে ৪ হাজার ইয়াবাসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজ উল্লাহকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। আটক হাফিজ উল্লাহ (৬৬) টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ডেইলপাড়ার বাসিন্দা। তিনি টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এর আগেও ইয়াবাসহ আটক হওয়ার কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।’’
পরিচয়র বিষয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কক্সবাজার নিউজকে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, ‘‘হাফেজ উল্লাহ উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগেও তিনি ইয়াবাসহ আটক হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পরই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।’’
কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার বিএন সুমন আল মুকিত সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টায় কোস্টগার্ড স্টেশন ইনানী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।’’
‘‘অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী যাত্রীবাহী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৪ হাজার ৫শ পিস ইয়াবাসহ হাফিজ উল্লাহকে আটক করা হয়।’’ – যোগ করেন তিনি।
অর্থাৎ, সাড়ে ৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামীর নেতা নন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক।