রংপুরে বৈধ লাইসেন্সের অপব্যবহার করে চলছে অবৈধ দেশি মদের ব্যবসা। অভিযোগ উঠেছে, অনুমোদিত বরাদ্দের চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ মদ অবৈধ পন্থায় সংগ্রহ করে বিক্রি করছে এক শ্রেণির বৈধ ব্যবসায়ী। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশু-কিশোরদের। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নির্ধারিত মদের পরিমাণ কিংবা নিবন্ধিত ক্রেতার সংখ্যা- কোনো নিয়মই মানছেন না এ ব্যবসায়ীরা। ফলে বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। চরম অবক্ষয় ঘটছে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের। রংপুর বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদ বিক্রির জন্য বেশ কয়েকটি বৈধ বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।
এর মধ্যে রংপুর সদর, বদরগঞ্জ ও কাউনিয়ায় তিনটি, কুড়িগ্রামে দুটি, লালমনিরহাটে দুটি, নীলফামারীতে তিনটি, পঞ্চগড়ে একটি এবং দিনাজপুরে চারটি অনুমোদিত কেন্দ্র রয়েছে। সম্প্রতি রংপুরের কাউনিয়ায় সরকার অনুমোদিত দেশি মদের দোকানে মদ বিক্রি ও সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ৮-১০ বছরের এক শিশু মদের পাত্র বহন করে নিয়ে যাচ্ছে এবং একাধিক ব্যক্তি প্রকাশ্যে মদ সেবন করছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই কেন্দ্রে সব নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বহিরাগত এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছেও অবাধে দেশি মদ বিক্রি করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রংপুরে নিত্যপণ্যের মতোই অবাধে বিক্রি হচ্ছে মদ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতারা বিক্রয়কেন্দ্রে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেক সময় উপচে পড়া ভিড় দেখে মনে হয়- যেন কাঁচাবাজার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান। কেউ কিনছেন আধা লিটার, কেউ এক লিটার। লাইসেন্সধারী ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও কাছে মদ বিক্রি নিষেধ থাকলেও, তা অবাধে তুলে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ নেশাখোরদের হাতে। এর ফলে এলাকার স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, কিশোর এবং বিভিন্ন বয়সের মানুষ আশঙ্কাজনক হারে মাদকের মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।
কাউনিয়া কেন্দ্রের মদ বিক্রেতা রতন সরকার বলেন, আমি লাইসেন্স ছাড়া মদ বিক্রি করি না। ভিডিওতে মদ খাওয়ার বিষয়টি সুইপারদের। পাত্রে করে মদ নিয়ে যাওয়া শিশুটিও সুইপারের ছেলে। এরা জন্মের পর থেকেই মদ খায়। বাধা দেওয়া যায় না। লাইসেন্স ছাড়া সাধারণ মানুষ কীভাবে মদ পাচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, তারা মূলত সুইপার অথবা লাইসেন্সধারী কারও মাধ্যমে মদ সংগ্রহ করে সেবন করেন। রংপুর বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদ হোসেন কাউনিয়ায় নিয়মবহির্ভূত মদ বিক্রি, প্রকাশ্যে সেবন ও শিশু দিয়ে মাদক পরিবহন প্রসঙ্গে বলেন, ভিডিওটি আমাদের কাছে এসেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে।