Image description

নিজের মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনই লঙ্ঘন করলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সঙ্গে নিয়ম লঙ্ঘনে যোগ দিয়েছেন আরও দুজন মন্ত্রী। তাদের সুপারিশে নিজের জেলা টাঙ্গাইলে বদলি হয়েছেন এলজিইডির এক নির্বাহী প্রকৌশলী।

 

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ কিংবা স্বামী-স্ত্রীর নিজ জেলায় পদায়ন না দেওয়ার নীতিমালা জারি করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। গত ২ জুলাই জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তাকে তার নিজ জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলায় পদায়ন করা যাবে না।’

প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, স্বার্থের সংঘাত এড়ানো এবং স্থানীয় প্রভাবমুক্তভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ওই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

কিন্তু ওই প্রজ্ঞাপন জারির মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে গত ১৬ জুলাই এলজিইডি সদর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) জাহানারা পারভীনকে তার নিজ জেলা টাঙ্গাইলে বদলি করা হয়েছে।

টাইমস অব বাংলাদেশের অনুসন্ধান বলছে, এই বদলি ও পদায়ন নীতিমালা লঙ্ঘনের নেপথ্যে রয়েছে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং টাঙ্গাইলের আরেক মন্ত্রীর সুপারিশ।

 

সরকারি নথি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাহানারা পারভীনের স্থায়ী ঠিকানা টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলা। শুধু তাই নয়, তার স্বামী শামছুল বারীর নিজ জেলাও টাঙ্গাইল। ফলে তিনি একই সঙ্গে নিজের জেলা এবং স্বামীর নিজ জেলায় পদায়ন পেয়েছেন। তাদের দুজনের গ্রামের বাড়িই মধুপুর উপজেলায়। ওই আসনের সংসদ সদস্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

এ বিষয়ে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. বেলাল হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, ‘এলজিআরডি মন্ত্রীর পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং টাঙ্গাইলের আরেকজন পূর্ণমন্ত্রীর সুপারিশে এ বদলি করা হয়েছে। আমি শুধু নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছি। টাঙ্গাইলের দুই মন্ত্রী এলজিআরডি মন্ত্রীকে বুঝিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এলজিআরডি মন্ত্রী জেলা পর্যায়ে একজন নারী কর্মকর্তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেই জায়গা থেকে জাহানারা পারভীনের নাম উঠে এসেছিল। মাঠ পর্যায়ে কোনো নারী নির্বাহী প্রকৌশলী নেই বলেও দাবি তার।’

এই বদলির মাধ্যমে সরকারি প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘিত হয়েছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাধারণত নিজ জেলায় বদলি না করার নিয়ম না থাকলেও একাধিক মন্ত্রী বিষয়টি চাওয়ায় এক্ষেত্রে আসলে বিষয়টি ভিন্ন ব্যাপার।’

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা কোনো সাড়া দেননি।

তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব শরিফুল ইসলাম টাইমস’কে বলেন, ‘মন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। এ বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।’

প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল জেলা থেকে পূর্ণমন্ত্রী আছেন দুজন, আর একজন প্রতিমন্ত্রী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ছাড়া অপর পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন আহমেদ আযম খান। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী হলেন সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।

তবে টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান টাইমসকে বলেন, ‘আমি হলফ করে বলতে পারি, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার মন্ত্রণালয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’

নীতিমালা কার্যকরের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজ জেলায় একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর পদায়নের ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরেও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাহানারা পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলতে রাজি হননি।