টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার সাদেক পোলট্রি ফার্মের দেড় হাজার মুরগি মারা গেছে। নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মো. সাদেক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যাংকঋণের পরিমাণ প্রায় তিন লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট ঋণের প্রায় ১৯.৪০ শতাংশ। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৯ হাজার ২৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১.৭ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঋণ পরিশোধের বিষয়ে নমনীয় হওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণের কিস্তি স্থগিত, সুদ মওকুফ বা পুনঃ তফসিলের মতো সহায়ক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের পুনর্বাসনে বিশেষ প্রণোদনা প্রয়োজন, যাতে তারা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের মোট ঋণের বড় অংশ যেহেতু ঢাকা ও চট্টগ্রামে কেন্দ্রীভূত, তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসব অঞ্চলে আর্থিক ঝুঁকিও বেশি তৈরি হয়। চট্টগ্রামের পাশাপাশি সিলেটেও ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ থাকায় বন্যার প্রভাব ব্যাংকিং খাতেও পড়তে পারে।
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান কালের কণ্ঠকে জানান, বন্যা হলে কৃষিঋণের কিস্তি আদায়ে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তবে এবারের জন্য এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। যদি স্থানীয় পর্যায় থেকে কোনো অনুরোধ আসে বা স্থানীয় সংসদ সদস্যের দাবির মাধ্যমে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।