দুর্ঘটনায় আহত স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন চিকিৎসা অনুদান দেবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা আগামী ৩১ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। গত ৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সোহাগ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূর্ঘটনায় আহত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান নির্দেশিকা, ২০২০ অনুসারে আহত স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা অনুদান দেওয়া হবে।
আবেদনের পদ্ধতি: চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে প্রবেশ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
যারা আবেদন করতে পারবেন: বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট প্রান্তে আহত এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে একবার অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আহত হওয়ার সময়কাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অর্থবছর অথবা তার আগের এক বছরের মধ্যে হতে হবে।
আবেদনের শর্ত: আবেদনকারীদের অবশ্যই স্নাতক বা সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত হতে হবে। মেধার প্রমাণ হিসেবে পূর্ববর্তী পরীক্ষায় ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর অথবা এসএসসি ও এইচএসসি/সমমানে জিপিএ ৩.৫০ (৫-এর মধ্যে) এবং স্নাতক বা সমমান পর্যায়ে জিপিএ ৩.০০ (৪-এর মধ্যে) অর্জনের সনদ আপলোড করতে হবে।
এ ছাড়া জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে অফিসপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। অন্যান্য আবেদনকারীর ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত পিতা/মাতা/অভিভাবক দরিদ্র মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের বার্ষিক আয় এক লাখ টাকার কম হতে হবে।
প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র: আহত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র এবং চিকিৎসা সনদের কপি আপলোড করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আবেদনের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদ, বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি, স্বাক্ষর এবং অনলাইন ব্যাংক হিসাবের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। কোনো হার্ডকপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত নির্দেশনা: অনুদানের অর্থ গ্রহণের জন্য আবেদনপত্রে শিক্ষার্থী অথবা তার বাবা-মায়ের নিজস্ব সচল অনলাইন ব্যাংক হিসাব নম্বর ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে। ব্যাংক হিসাবের প্রমাণ হিসেবে চেকের পাতার কপি অথবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট আপলোড করতে হবে। শিক্ষার্থী বা বাবা-মায়ের ব্যাংক হিসাব না থাকলে, শিক্ষার্থী যার ওপর নির্ভরশীল সেই অভিভাবকের ব্যাংক হিসাব বিবেচনা করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দেশনা: অনলাইনে আবেদন করার সময় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকায় না থাকলে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে প্রতিষ্ঠানের EIIN ও প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ডাকযোগে অথবা [[email protected]](mailto:[email protected]) ই-মেইলে আবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
আবেদনের লিংক: আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ৩১ আগস্ট ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।