রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত এবং ‘মতিঝিলের ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত শ্যুটার তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগ। গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, সাত রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬), মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মো. মানিক কাজী (৫০) এবং রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)।
পুলিশের দাবি, মতিঝিল এলাকায় চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন গুলিবর্ষণের ঘটনায় বাপ্পির সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যা চেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা রয়েছে
শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদার ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর আগে ১৫ মে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ওই ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তে বাপ্পি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। তবে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, শুক্রবার সকালে মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাপ্পি, জুয়েল, শাকিল ও মানিক কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় উত্তর কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে।
মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, পুলিশের তথ্যমতে, বাপ্পি একজন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যা চেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।