গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চরে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫০টি বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিচু এলাকা। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তিস্তায় পানি বেড়ে উপজেলার কাপাসিয়া, হরিপুর, বেলকা, চন্ডিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন শুরু হয়। এক ভোরের পাখির চরেই গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অর্ধশত ঘর, স্কুল, মসজিদ ও অন্তত চারশ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে যায়। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও পাঁচ শতাধিক বসতভিটা ও শত শত একর ফসলি জমি।
তাদের অভিযোগ, ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়সারা কিছু জিও ব্যাগ ফেললেও কাজ হয়নি। সরকারের কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনেও যাননি।
ভোরের পাখির চরের বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘জিও বার হয়ে যাবার ধরছে ভাই। হামার সক কিছু নদীত পড়ে যাচ্ছে। হামারে কেউ খবর নিচ্ছে না।’ মমেনা বেগম নামে আরেকজন বলেন, ‘নদীত হামাহেরে আবাদি জমিগুলো ধপস ধপস করে পড়ে যাচ্ছে। এবার যেভাবে ভাঙছে বাঁচে থাকার জন্য কিছু থাকপা লয় মনে হয়।’
আব্দুল হালিম নামে আরেকজন বলেন, ‘সারা রাত জাগে থাকি। কখন যে বাড়ি-ঘর সব নদীতে চলে যায়।’
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙন থেকে বসতঘর সরাতে এখন দিশেহারা চরবাসী। বৃহস্পতিবার সারা রাত জেগে অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেন।
কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, ভোরের পাখি চর ছাড়াও লালচামার, ফুলমিয়ার মোড়, উজান বোচাগাড়ি, ভাটি বোচাগাড়ি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। নিমেষে ফসলি জমি, ঘর, গাছপালা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। অথচ সরকারিভাবে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় কছিম বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক বলেন, অনেক আগেই তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। অসংখ্য শাখা তৈরি হয়েছে। এজন্য সময়-অসময়ে নদী ভাঙন দেখা দিচ্ছে; জিও ব্যাগ ফেলে লাভ হচ্ছে না। স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে না পারলে চরের মানুষের কষ্ট কোনো দিন দূর হবে না।
কাপাশিয়া ইউনিয়নের বিএনপির নেতা মোজাহারুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পিতভাবে নদী শাসন ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। খনন করে নদীর গতিপথ একমুখী করতে পারলে ভাঙন কমতে পারে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙন দেখা দিলে জিও টিউব ও ব্যাগ ফেলার বাইরে তাদের আর কিছু করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু নদী খনন ও শাসন ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ সম্ভব নয়।