Image description

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল। ফের বন্ধ ইলিশ আহরণ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারির পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঘাটে ফিরছে শত শত ফিশিং ট্রলার। এতে টানা দুর্যোগে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলে ও ট্রলার মালিকরা।

আজ শুক্রবার বিকালে বাগেরহাটের শরণখোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের ট্রলার মালিক ও মৎস্য আড়তদাররা জানান, গত দুদিনে শত শত ফিশিং ট্রলার সাগর ছেড়ে সুন্দরবনের দুবলা, আলোরকোল, মেহের আলী, ভেদাখালী, কচিখালী, নারকেলবাড়িয়া এবং উপকূলের শরণখোলা, পাড়েরহাট, পাথরঘাটা, মহিপুর, চরদুয়ানী ও নিদ্রা সখিনা এলাকায় নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে প্রায় ১০ দিন ইলিশ আহরণ বন্ধ ছিল। আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে গত সোমবার জেলেরা আবার সাগরে নামেন। কিন্তু মাত্র দুদিন মাছ ধরার পর নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় তাদের আবারও তীরে ফিরতে হয়েছে।

 

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ভেদাখালী খালে আশ্রয় নেওয়া বাগেরহাটের বগা এলাকার জেলে মোশারেফ হোসেন এবং পিরোজপুরের পাড়েরহাটের জেলে দুলাল হাওলাদার মোবাইল ফোনে জানান, দুদিন আগে তারা সাগর থেকে উঠে ভেদাখালী খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। সাগর আবার উত্তাল হয়ে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে। প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে জাল ফেলার কোনো সুযোগ নেই। একের পর এক দুর্যোগে জেলেদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

 

 

শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেছেন, ‘দুর্যোগ যেন আমাদের পিছুই ছাড়ছে না। এক দুর্যোগের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার শুরু হয়েছে নতুন দুর্যোগ। সাগরে নামার দুদিন পরই বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে শত শত ফিশিং ট্রলার উপকূলে ফিরে এসেছে।’ ৫৮ দিনের অবরোধের পর সাগরে গিয়ে তিন দফা দুর্যোগের কবলে পড়তে হয়েছে। এর ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলে-মহাজনরা।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বললেন, ‘সাগরের বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নেওয়া জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের খোঁজখবর রাখতে সংশ্লিষ্ট বনরক্ষীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’