কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির পর দেশের চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ভয়ঙ্কর অপরাধীরা নিজেরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। কেউ কেউ হত্যাকাণ্ডেরও শিকার হচ্ছেন।
সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কিছু ঘটনার সূত্র মিললেও অনেকগুলোরই এখনো মিলছে না কূলকিনারা। ফলে এসব ঘটনা কারা ঘটাচ্ছে, কেন ঘটাচ্ছে সে বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে যাচ্ছে।
যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, হত্যাকাণ্ডগুলোতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুব শিগগিরই গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যে, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আইনের ফাঁক গলে জামিনে কারাগার থেকে বেরোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কয়েকজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার কিছুকালের মধ্যেই খুন হয়েছেন।
খুন হয়েছেন যেসব শীর্ষ সন্ত্রাসী
চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল রাত পৌনে ৮টার দিকে নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম ছিল দ্বিতীয় নম্বরে।
টিটন হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো এর সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। কারা এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছে, কারা গুলি চালিয়েছে, এসবের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি। তদন্তে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রচলিত উভয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে। ওই ঘটনায় তদন্ত শেষে ডিবি অস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে দুইজন ছিলেন পেশাদার শুটার। পুলিশের দাবি, অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
কারামুক্তির আনুমানিক এক মাসের মাথায় হামলার শিকার হন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান, তিনি কাইল্লা পলাশ হিসেবে বেশি পরিচিত ছিলেন। গত ১২ জুন রামপুরায় নিজ বাসার কাছে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। মাথায় দুটি গুলি লাগার পর প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম হাতিরঝিল থানায় কয়েকজন আসামির নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় এখন পর্যন্ত ইমাম হোসেন ও মারুফ সুলতান নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কাইল্লা পলাশ আবার যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। ২০০২ সালের ২৯ মে রাজধানীর রামপুরায় সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে বিচারিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালত তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় কারাভোগের পর তিনি মুক্তি পান।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি মিজান হত্যা মামলার প্রতিশোধ হিসেবে ঘটানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকার অপরাধজগতের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন ও খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনার তদন্তেও এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। টিটন হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিষয়ে প্রায় দেড় মাস আগে গোয়েন্দা পুলিশ যে অবস্থানের কথা জানিয়েছিল, আড়াই মাস পরও তদন্ত কার্যত সেখানেই রয়েছে। অপরাধজগতের কয়েকজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। কোনো মামলাতেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়নি।
তবে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, তারিক সাইফ মামুন হত্যা মামলার আরেকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেলেই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ সম্পন্ন হবে। এরপর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
টিটন হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজনদের মধ্যে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলাল এবং সানজিদুল ইসলাম ইমনের নাম রয়েছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়ায় তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা।
হত্যাকাণ্ডের পর টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) রমনা বিভাগ।
ডিবির রমনা বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) ইরফান খান বলেন, টিটন হত্যা মামলার তদন্তে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে আসামি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য খুব শিগগিরই গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সূত্র ধরে ম্যানুয়ালি অনুসন্ধান চলছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, টিটনকে লক্ষ্য করে গুলি করেন একজন শুটার, তার সঙ্গে ছিলেন আরেক সহযোগী। তারা মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে এসে হামলা চালান। টিটনের কপাল, মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পরপর ছয়টি গুলি করে তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা খুনিদের রায়েরবাজার পর্যন্ত অনুসরণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এরপর তারা কোন পথে পালিয়েছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি রাতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সিগাল পয়েন্টের ঝাউবাগানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপু (৫৫)। মোটরসাইকেলে এসে দুই ব্যক্তি তাঁর মাথায় গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশের ভাষ্যে, তাকে হত্যা করার প্রধান কারণ চাচা হত্যার প্রতিশোধ।
হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পর শেখ শাহরিয়ার ইসলাম ওরফে পাপ্পু (২৭), ঋতু (২৪) ও গোলাম রসুল (২৫) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।
তখন পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতা ও প্রতিশোধের বিষয়।
সাবেক কাউন্সিলর টিপু হত্যার কয়েকদিন পরে জেলা পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ২০১৫ সালে খুলনার চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হুজি শহীদুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় গোলাম রব্বানী টিপুসহ চারজন জড়িত ছিলেন। গ্রেপ্তার শাহরিয়ার ইসলাম নিহত হুজি শহীদুলের ভাতিজা। চাচার হত্যার প্রতিশোধ নিতেই তিনি টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর আগে ওই মামলার আরেক আসামি নিহত হন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নারী সহযোগী ঋতুকে ব্যবহার করে টিপুকে কৌশলে কক্সবাজারে নেওয়া হয়। তিনি টিপুর গতিবিধি শাহরিয়ারকে জানাতেন। হত্যাকাণ্ডের সময় শাহরিয়ার ও তাঁর সহযোগীরা কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন। হত্যার পর ব্যবহৃত অস্ত্র একটি রিসোর্টের কক্ষের চিলেকোঠা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, চাচা হুজি শহীদুল হত্যার প্রতিশোধ নিতেই শাহরিয়ার ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার হলে অপরাধীরা কেন শনাক্ত হচ্ছে না
হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিন পরও কোনো কূল কিনারা না পাওয়া প্রসঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যম সারির এক নেতা বলেন, কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসী হত্যার শিকার হলে প্রায়ই আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম সামনে আসে। এ ধরনের তথ্য বা প্রচার সবচেয়ে বেশি পুলিশের পক্ষ থেকেই দেখা যায়। এটি তদন্তের অংশ হতে পারে, আবার দায়িত্বে গাফিলতি বা অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ধরা যাক, কোনো অপরাধের নির্দেশদাতা দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তাকে হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়। কিন্তু তার সহযোগী বা অনুসারীরা তো দেশে রয়েছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করলে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব। তাহলে সেটি কেন হচ্ছে না, এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া প্রয়োজন।
অপরাধবিজ্ঞানীরা অভিমত
অপরাধবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বাংলানিউজকে বলেন, রাজধানীতে গুলি ও হত্যাকাণ্ড বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলায় অশনিসংকেত সব ঘটনায় সমান গুরুত্ব না দিলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হবে জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশ কম, বাড়ছে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইন প্রয়োগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরে অপরাধপ্রবণতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে গুলিবিদ্ধ হওয়া ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন—সব ক্ষেত্রেই এখন শক্তিশালী পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিল বা প্রতিশোধ নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে অস্ত্র ও সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছে।
তার ভাষ্য, রাজধানীতে এ ধরনের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অশনিসংকেত। কারণ প্রতিটি ঘটনায় সমান গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কোথাও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কোথাও বিলম্ব হচ্ছে। এই বৈষম্য অপরাধীদের মধ্যে এক ধরনের বার্তা দেয় যে সব অপরাধের একই পরিণতি হয় না। ফলে তারা আরও উৎসাহিত হয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশকে অনেক সময় রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিনের এই সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি বদলায়নি। পাশাপাশি ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীর পুনর্গঠন ও ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং পেশাগত ঐক্যের ঘাটতিও এখনো দৃশ্যমান। এসব দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধী চক্র।
ড. তৌহিদুলের মতে, যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বা অপরাধী নেটওয়ার্ক রয়েছে, তারা অনেক সময় আইনকে তোয়াক্কা করে না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি অভিযোগ ও অপরাধকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ এবং প্রভাবশালীদের প্রতিও কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী একটি বিষয় প্রমাণিত—আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যদি রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবের কারণে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দেশে এই বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
ডিবি প্রধানের ভাষ্য
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও একজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাকে আটক করা গেলে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।
তিনি বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যা মামলার তদন্তে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলেও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত এগিয়ে চলছে। মানে বলতে পারেন অপরাধীদের ছকের মধ্যে আনা হয়েছে।
কাইল্লা পলাশ হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জিসানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে পলাশের পরিবারের করা মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্টতাসহ সব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বে অপরাধ দমনে অপরাধী চক্র ব্যবহৃত হওয়ার ইতিহাস
বিশ্বের ইতিহাসের কিছু ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে, যেখানে এক অপরাধ চক্র দমনে আরেক অপরাধ চক্র ব্যবহৃত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব ঘটনা সাধারণত বিতর্কিত এবং কোনো দেশের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তাছাড়া এ ধরনের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায় না।
১৯৯৩ সালে কুখ্যাত মাদক সম্রাট পাবলো এসকোবারের ‘মেদেইন কার্টেল’কে ধ্বংস করতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কালি কার্টেলের অর্থায়নে গঠিত হয় সশস্ত্র দল ‘লস পেপেস’। প্রকাশিত সিআইএ নথি অনুযায়ী, কলম্বিয়ার এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে লস পেপেসের নেতা ফিদেল কাস্তানিওর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার নির্দেশ দেন এবং পুলিশের বিশেষ ইউনিট ‘সার্চ ব্লক’র সঙ্গেও এই দলের তথ্য বিনিময়ের সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। মার্কিন ডিইএ ও সিআইএও এই সংযোগ সম্পর্কে অবগত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এসকোবারের পতনে এই আধা-সামরিক দলের ভূমিকা ছিল সিদ্ধান্তমূলক — অর্থাৎ একটি অপরাধী চক্রই প্রতিদ্বন্দ্বী চক্র নির্মূলে কাজ করেছিল।
মেক্সিকোতেও এক মাদক কার্টেলকে দমনে আরেক কার্টেল ব্যবহৃত হওয়ার বিতর্কিত অভিযোগ আছে।