বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নন্দিত রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপথগামী একদল সেনাসদস্যের হাতে শহীদ হয়েছিলেন। প্রেসিডেন্টের হত্যা ও লাশ গায়েব করার পেছনে ভূমিকা ছিল সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেনের। সে সময় তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দিতে সে সময় পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গত বুধবার রাতে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যায় যে ১৮ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে ফাঁসি ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছিল, তার অন্যতম মেজর (অব.) মোজাফফর। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ভারতে পলাতক থেকে নাম পরিবর্তন করে মাঝে মাঝে দেশে আসছিলেন এই ঘাতক। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার চাইলে দ্রুত তার সাজা কার্যকর হবে। সেনা আইনের আওতায়ই সেটা করা হবে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোর রাতে চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে একদল সেনা কর্মকর্তা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সামরিক বাহনে চেপে বেরিয়ে আসেন। তখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। সেনাসদস্যদের গন্তব্য সাত কিলোমিটার দূরে শহরের কেন্দ্রস্থল কাজীর দেউড়িতে অবস্থিত সার্কিট হাউস। ব্রিটিশ আমলে গড়া বাংলো প্যাটার্নের দৃষ্টিনন্দন তিনতলা ওই ভবনে তখন অবস্থান করছিলেন তখনকার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক। আগের দিন রাজধানী থেকে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন স্থানীয় বিএনপিতে চলতে থাকা কোন্দল মেটাতে। ওই সার্কিট হাউসই তার রক্তে রঞ্জিত হয়। হয়েছে অভিশপ্ত। ঘাতকদের মাত্র ৯ মিনিটের অপারেশনে শহীদ হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায় সেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে অন্যদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। তিনিই ভোর সাড়ে ৪টার কিছু পরে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ২৪ ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল আবুল মনজুরকে ফোন করে জানান, ‘দ্য রাষ্ট্রপতি হ্যাজ বিন কিলড।’ পরে রাষ্ট্রপতিসহ তিনজনের লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাহাড়ে একটি গর্ত খুঁড়ে একসঙ্গে মাটিচাপা দেন এই ঘাতক মোজাফফর।
রাষ্ট্রপতি জিয়ার হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেক অনুসন্ধান হয়েছে। সেনাবাহিনী, সরকার ও সাংবাদিকরা রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করেছেন। অনুসন্ধানে উঠে আসে, জঘন্য ওই হত্যাকাণ্ডের পর মেজর মোজাফফরের নেতৃত্বে একটি দল লাশ গায়েব করে। গহিন জঙ্গলের একটি টিলায় হেলাফেলায় রাষ্ট্রপতি জিয়া ও অন্য দুই সেনা কর্মকর্তার লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়। অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহর নেতৃত্বে একটি দল সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে ঢাকায় পাঠায়। বিগত ৪৫ বছরে দেশ-বিদেশে কখনো প্রকাশ্যে, কখনো গা-ঢাকা দিয়ে থাকাবস্থায় সাক্ষাৎকার দিয়ে ঘাতক মোজাফফর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা ও তার লাশ দাফন সম্পর্কে নিজের মতো করে বিভিন্ন বয়ান দেন। জিয়াউর রহমান হত্যার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও করেন বিভিন্ন সময় দেওয়া বক্তব্যে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে ২৯ মে রাত ও ৩০ মে ভোর রাত সাড়ে ৩টায় তিনটি গাড়ি নিয়ে ১৬ সেনা কর্মকর্তা রওনা হন। রাষ্ট্রপতি জিয়া তখন সার্কিট হাউসে ঘুমিয়ে। গুলি করতে করতে তাদের একটি দল দোতলায় ওঠে। গোলাগুলির শব্দ শুনে বাইরে কী হচ্ছে দরজা ফাঁক করে দেখার চেষ্টা করেন হতচকিত রাষ্ট্রপতি জিয়া। তখন গর্জে ওঠে আঁততায়ীর হাতের আগ্নেয়াস্ত্র। ৯ মিনিটেই তারা কিলিং অপারেশন শেষ করে। ভোর সাড়ে ৪টার কিছু পরে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ২৪ ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল আবুল মনজুরকে ঘাতক মেজর মোজাফফর হোসেন ফোন করে জানান, ‘দ্য রাষ্ট্রপতি হ্যাজ বিন কিলড।’
অনুসন্ধান বলছে, রাষ্ট্রপতি পরিস্থিতি বুঝতে দরজা খুলতেই ঘাতকদলের এক সামরিক কর্তকর্তা তার স্টেনগানের এক ম্যাগজিন গুলির পুরোটাই রাষ্ট্রপতি জিয়ার ওপর চালিয়ে দেন।
মেশিনগানের ব্রাশফায়ারে জিয়াউর রহমানের মুখের এক পাশ উড়ে গিয়েছিল। একটি চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে এসেছিল। পেছনের দেয়ালে লেগেছিল ফিনকি দিয়ে পড়া রক্ত ও বীভৎসতার চিহ্ন। বারান্দায় পড়ে থাকা রাষ্ট্রপতির রাতের পোশাক সাদা ধবধবে পাজামা-পাঞ্জাবি লাল হয়েছিল রক্তে।
চট্টগ্রামের তখনকার পুলিশ সুপার সৈয়দ শফিউদ্দীন আহমেদের পরিবারের সদস্যরা পরে জানান, জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দায়িত্বরত কোনো বেসামরিক কর্মকর্তা হিসেবে শফিউদ্দীন আহমেদই প্রথম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বারান্দায় পড়ে থাকা গুলিতে ঝাঁজরা রাষ্ট্রপতির লাশ দেখে সেখানেই স্ট্রোক করেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়ার সঙ্গে ওই দিন সার্কিট হাউসে গুলিতে নিহত হয়েছিলেন আরো দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহসান এবং ক্যাপ্টেন আশরাফুল হাফিজ খান। তারা ছিলেন রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা বাহিনী বা রাষ্ট্রপতি গার্ড রেজিমেন্টের সদস্য।
৩০ মে সকালবেলা সেনানিবাস থেকে যে দুজন সামরিক কর্মকর্তা প্রথম সেখানে হাজির হন, তারা ছিলেন মেজর শওকত এবং মেজর রেজাউল করিম। এদের মধ্যে মেজর শওকতের দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রপতি ও অন্য দুজনের লাশ সার্কিট হাউস থেকে অপসারণ করে কবরস্থ বা মাটিচাপা দেওয়া। আর মেজর রেজার দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রপতি গার্ড রেজিমেন্টের সদস্যদের আটক করে সার্কিট হাউস থেকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া। তারা দুজনই সার্কিট হাউসের দোতলার বারান্দায় নিজ কক্ষের সামনে জিয়ার বিক্ষত ও রক্তাক্ত লাশ দেখেছেন।
মেজর (অব.) রেজাউল করিম ওই দিনের স্মতিচারণ করে পরে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘দোতলায় উঠে সিঁড়ি বারান্দায় দেখি ছোটখাটো একটি ডেডবডি ঢাকা। একজন পুলিশ দাঁড়ানো। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কার ডেডবডি? সে বলল রাষ্ট্রপতির। তাকে মুখটা খুলতে বলার পর দেখলাম পরনে সাদা পাঞ্জাবি। তার একটি চোখ বের হয়ে ঝুলে আছে। পুরো মুখ ঝাঁজরা। আমি তারপর তাকে বললাম, ঠিক আছে ঢেকে রাখো। বারান্দায় আরেকটু সামনে গিয়ে দেখি আরেকটি ডেডবডি। দেখি একটি হাত বের হয়ে আছে। মুখ খুলে দেখি এটা কর্নেল আহসান। আরেকটু সামনে গিয়ে দেখি একটি বড়সড় লাশ। যেটার শুধু পা বের হয়ে আছে। সেটা খুলে দেখি আমার বন্ধু ক্যাপ্টেন হাফিজ।’
মেজর রেজাউল ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, সার্কিট হাউস থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়া ও আরো দুই সেনা কর্মকর্তার লাশ সংগ্রহ করে তা সমাহিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর শওকত ও মেজর মোজাফফরকে। ওই দায়িত্ব দিয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান, যাকে জিয়া হত্যাকাণ্ডের পরপর চট্টগ্রাম সেনানিবাসে সবচেয়ে সক্রিয় দেখা যায়।
মেজর (অব.) রেজাউল করিমের ভাষ্যমতে, কর্নেল মতিউর রহমান দাঁড়িয়ে আছেন, তার হাতে চাইনিজ স্টেনগান। আমাকে দেখেই বললেন, ‘রেজা কাম হিয়ার। তুমি সার্কিট হাউসে যাও। তুমি মেজর শওকত, মেজর মোজাফফর ও আরো কয়েকজন অফিসারকে নিয়ে যাও। রাষ্ট্রপতিরর ডেডবডি পাহাড়ের ভেতরে কোথাও কবর দিয়ে আসো।’ আমি তাকে বললাম, ‘স্যরি স্যার, আমাকে অন্য কাজ দেন।’ আমি মেজর শওকতকে দেখিয়ে দিলাম। উনি তখন শওকত ও মোজাফফরকে ডেকে লাশ নিয়ে যেতে বললেন। আর আমাকে বললেন, ‘ওখানে গার্ড রেজিমেন্টের যেসব সদস্য আছে, তাদের নিয়ে আসতে।’
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ তিন সেনা কর্মকর্তার লাশ একটি সামরিক পিকআপ ভ্যানে তুলে দাফনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন মেজর শওকত ও মেজর মোজাফফর। মেজর (অব.) রেজা বলেন, ‘ওরা তিনটা ডেডবডি ওদের গাড়িতে ওঠাল। আর আমি আমার লোকগুলোকে অস্ত্র জমা রাখার পর আমার গাড়িতে ওঠালাম। মেজর শওকতের নেতৃত্বে ওরা চলে গেল কবর দিতে। আর আমি চলে গেলাম ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টারে।’
মেজর শওকত, মেজর মোজাফফরসহ আরো কয়েকজন সেনাসদস্যকে সঙ্গে করে জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ে চলে যান। নির্জন পাহাড়ের পাদদেশে একটি গর্ত করে সেখানে জিয়াউর রহমান, কর্নেল আহসান এবং ক্যাপ্টেন হাফিজের লাশ মাটিচাপা দিয়ে আসেন তারা। দুদিন পর ১ জুন ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহ্ চট্টগ্রামের সেই পাহাড় থেকে লাশ উদ্ধার করেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী পত্র-পত্রিকার খবর এবং পরবর্তীকালের বিভিন্ন অনুসন্ধান থেকে জানা যায় আর কিছু তথ্য। মেজর শওকতকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরে মূলত লাশ গায়েব বা ঘাতকদের ভাষায় মাটিচাপা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন মেজর মোজাফফর। পরে মেজর মোজাফফর বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, কর্নেল মতিউর তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন জিয়ার লাশ সার্কিট হাউস থেকে নিয়ে চট্টগ্রামের কোনো পাহাড়ের খাদে ফেলে দিয়ে আসতে। তার ভাষ্য—কিন্তু পাহাড়ের কোনো খাদে ফেলে না দিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় এক গ্রামের কাছে সমতলে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় কবর দিয়েছিলেন। সেই গ্রামের নাম পাথরঘাটা। গ্রামবাসীর সহায়তায়, তাদের কোদাল-খুন্তি দিয়ে গর্ত খুঁড়ে একই গর্তে তিনজনের লাশ সমাহিত করে রেখে আসেন বলে জানান মেজর মোজাফফর।
এ বিষয়ে পরে বিএনপির সিনিয়র নেতা মরহুম ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহ কথা বলেছিলেন বিবিসির সাংবাদিক কাদির কল্লোলের সঙ্গে। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় হান্নান শাহ ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদায় চট্টগ্রাম মিলিটারি একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন। বিবিসিকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে হান্নান শাহ বলেন, জিয়ার মৃত্যুর দিন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাত্তার দায়িত্ব নিয়ে ৩০ মে দুপুরের দিকে রেডিও-টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ছিল, সেটা তার পরের দিন দ্রুত পাল্টাতে থাকে।
৩০ মে অনেক সেনা কর্মকর্তার মতো হান্নান শাহকেও মিলিটারি একাডেমি থেকে ডেকে নিয়ে বিদ্রোহের পক্ষে সমর্থন চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু হান্নান শাহ তাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অভ্যুত্থান ও ক্ষমতা দখল চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ৩১ মে ঢাকার সঙ্গে সমঝোতার জন্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে অনুরোধ করা হয় হান্নান শাহকে। সাক্ষাৎকারে হান্নান শাহ বলেন, তিনি নিজে থেকেই জিয়ার লাশ খুঁজছিলেন। তখন লাশ খোঁজার মূল দায়িত্ব পড়েছিল তৎকালীন ফটিকছড়ি সার্কেলের ইন্সপেক্টর গোলাম কুদ্দুসের ওপর, পরবর্তী সময়ে যিনি ওসি কুদ্দুস নামে পরিচিতি পান। এই গোলাম কুদ্দুস পরে পলায়নরত মেজর জেনারেল মনজুরকেও আটক করে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হান্নান শাহ জানান, নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে তিনি নিজ থেকেই পয়লা জুন জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ খুঁজতে বের হয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন সিপাহি, ছিল একটি ওয়্যারলেস সেট এবং একটি স্ট্রেচার। হান্নান শাহ ওই সাক্ষাৎকারে জানান, তারা কাপ্তাই রাস্তার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। একটি অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নতুন কবরের সন্ধান করছিলেন তারা। তখন একজন গ্রামবাসী এসে তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা কী খুঁজছেন। ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ ওই গ্রামবাসীকে জিজ্ঞেস করেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে কোনো ব্যক্তিকে সম্প্রতি দাফন করেছে কি না? তখন সেই গ্রামবাসী একটি ছোট পাহাড় দেখিয়ে জানান, কয়েকদিন আগে সৈন্যরা সেখানে একজনকে কবর দিয়েছে। তবে গ্রামবাসীর কোনো ধারণা নেই কাকে সেখানে কবর দেওয়া হয়েছে।
গ্রামবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হান্নান শাহ সৈন্যদের নিয়ে সেখানে গিয়ে দেখেন নতুন মাটিতে চাপা দেয়া একটি কবর। সেখানে মাটি খুঁড়ে তারা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আরো দুই সেনা কর্মকর্তার লাশ দেখতে পান। তখন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কফিন তুলে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে আনা হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তা ঢাকায় পাঠানো হয়।
লেখক ও গবেষক আনোয়ার কবির এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর মেজর মোজাফফরের সঙ্গে তার একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনি জিয়াউর রহমানের লাশ সম্পর্কে বলেছেন, লাশের একটি অংশ, বিশেষ করে মুখের একাংশ প্রায় উড়ে গিয়েছিল।
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট অনেকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। গতরাতে আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, মেজর মোজাফফর জিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলেই সে সময়কার সামরিক আদালতের বিচারে তার সাজা হয়েছে। পলাতক থাকায় সাজা কার্যকর করা যায়নি। এখন গ্রেপ্তার হওয়ার ফলে সরকার চাইলে অবিলম্বে তার সাজা কার্যকর হওয়ার কথা।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর অস্থির সময়ে বিচার হয়েছে। তখন জে. এরশাদ উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনেককে ফাঁসিয়েছেন বলে চাউর আছে। এখন যেহেতু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আছে। গ্রেপ্তার মোজাফফরের কাছে জিয়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা কারা কিভাবে জড়িত ছিল তা স্বচ্ছতার সঙ্গে সামনে আনা দরকার। গোয়েন্দারা নিশ্চয়ই মোজাফফরকে জেরা করেছেন বা করবেন। তাতে কী পাওয়া গেল তা প্রকাশ করা হলে অন্ধকার থেকে অনেক কিছু আলোতে আসতে পারে।