আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে দেশের ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মিলে কোটি কোটি টাকা অর্থ পাচার করেছে বলে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। এই জাল-জালিয়াতির ঘটনা এখানেই শেষ নয়; প্রতিষ্ঠানগুলো ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অনুমোদিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট না হয়েও অবলীলায় পণ্য খালাস করে নিয়েছে। এর বাইরে কিছু প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভুয়া রপ্তানির নথিপত্র তৈরি করে, বাস্তবে কোনো পণ্য রপ্তানি না করেই সরকারের কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা হাতিয়ে নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ে শুল্ক কর্মকর্তাদের সামনে এমন ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আমদানির নামে অর্থ পাচার ও ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলার পর এরই মধ্যে এই ১৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) মামলার অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও চক্র এভাবে অর্থ পাচার করে আসছে। তবে সংখ্যায় কম হলেও এসব প্রতিষ্ঠান ছোট ছোট পণ্য চালানের মাধ্যমে জালিয়াতি করে আসছে। কিছু প্রতিষ্ঠান মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান করছে রপ্তানির আড়ালে করছে। পণ্য চালানের শতভাগ কায়িক পরীক্ষায় এসব চিত্র ধরা পড়েছে। এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে সরাসরি গিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—দো ইমপেক্স লিমিটেড, গ্রিন বাংলা এগ্রো অ্যান্ড জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, দি সিটি মেটাল প্রোডাক্ট, জান্নাত করপোরেশন, নাসা এগ্রো ফুড, এসএ এন্টারপ্রাইজ, রিফাত এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট, গোলন্দাজ কনসোর্টিয়াম অ্যান্ড লাইনস, এস এস ফুড নারায়ণগঞ্জ, সাগর জুট ডাইভারসিফিকেশন ইন্ডাস্ট্রিজ, মেসার্স সানফ্লাওয়ার, বিএইচকে টেক্সটাইল মিল, হোসে টাইগার কোম্পানি লিমিটেড ও দিব্য এন্টারপ্রাইজ।
দো ইমপেক্স লিমিটেড: প্রতিষ্ঠানটি মিথ্যা ঘোষণায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে পণ্যচালান রপ্তানির লক্ষ্যে তার মনোনীত ৫টি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে ২০১৯ সাল হতে ২০২১ সালের মধ্যে মোট ৪৫টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে। আলোচ্য ৪৫টি বিল অব এক্সপোর্টের মধ্যে ৩০টি বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে পারস্পরিক যোগসাজশে পাঁচজন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মিলে ভুয়া রপ্তানির নথি তৈরি করে। ৫টি ডিপো থেকে প্রাপ্ত জবাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩০টি বিল অব এক্সপোর্ট সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো কোনো ডিপো কর্তৃক রপ্তানির জন্য গ্রহণ করা হয়নি। ২৯টি বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে ১৯ লাখ ৯ হাজার ২১০ মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবসিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠান ৩ কোটি ৩৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা আর্থিক প্রণোদনা গ্রহণ করেছে।
গ্রিন বাংলা অ্যাগ্রো অ্যান্ড জুট ইন্ডাস্ট্রিজ: রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ১০৪০ প্যাকেজ ২৬ হাজার মেট্রিক টন তিলের বীজ পণ্য রপ্তানির উদ্দেশ্যে বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করলেও ইস্টার্ন লজিস্টিকের অফডক কর্তৃক পণ্য গৃহীত হয়নি। তবুও আলোচ্য বিল অব এক্সপোর্টটির শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং এক্ষেত্রে রপ্তানিকারক ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তবে ৪৬ হাজার ৪১৩ ডলার অবৈধভাবে প্রত্যাবাসিত করেছেন। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ মিঞা ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত-২০১৫) অনুযায়ী মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়।
দি সিটি মেটাল প্রোডাক্ট: আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি পণ্য চালান খালাসের কোনো কার্যক্রম গ্রহণ না করায় নিলাম শাখা কর্তৃক তা ইনভেন্ট্রি করা হয়। ইনভেন্ট্রিকালে প্রতিষ্ঠানের ঘোষণার কম পণ্য পাওয়া যায়। আমদানিকারক কর্তৃক প্রায় ১৭ হাজার ৯৯২ ডলার কম মূল্যের পণ্য আমদানি করা হয়। আমদানিকারক এলসির বিপরীতে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করেননি।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ খিজিরুর রহমানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়েরের সুপারিশ করেছে এনবিআর। রপ্তানির উদ্দেশ্যে বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করলেও পণ্য ডিপোতে প্রবেশ করেনি এবং এই বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে কোনো পণ্যচালান রপ্তানি করা হয়নি। তবে রপ্তানিকারক ভুয়া দলিলাদি দিয়ে জাল-জালয়াতির মাধ্যমে ভুয়া রপ্তানি প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করার প্রমাণ পেয়েছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। ব্যাংক থেকে সর্বমোট ৮১ হাজার ৯৭৪ ডলার অগ্রিম রেমিট্যান্স গ্রহণ করেন এবং পরে তা এই রপ্তানির মাধ্যমে অবৈধভাবে প্রত্যাবাসিত করার চেষ্টা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. গিয়াস উদ্দিন ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও মামলার অনুমোদন দিয়েছে এনবিআর।
জান্নাত করপোরেশন: প্রতিষ্ঠানের সত্বাধিকার মো. তাজুল ইসলাম টিপু কর্তৃক সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানেরি সঙ্গে যোগসাজশ করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দলিলাদির মাধ্যমে রপ্তানির লক্ষ্যে বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করেন। কিন্তু পণ্য ডিপো কর্তৃক রপ্তানির জন্য গ্রহণ করা হয়নি। রপ্তানিমূল্য যথাযথভাবে প্রত্যাবসিত হয়েছে। পণ্য চালানটির বিপরীতে রপ্তানিকারক সংশ্লিষ্ট লিয়েন ব্যাংক হতে ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৩৮ টাকা নগদ প্রণোদনা গ্রহণ করেছেন।
নাসা এগ্রো ফুড: অফডক শাখার মাধ্যমে আলোচ্য বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে ঘোষিত পণ্য গৃহীত হয়নি এবং টার্মিনাল রিসিট প্রদান করা হয়নি। তবে বিল অব এক্সপোর্টটির শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ, রপ্তানিকারক ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে দেশি-বিদেশি মুদ্রা অবৈধভাবে আত্মসাৎ করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ভুয়া দলিলাদির মাধ্যমে ৫৭ হাজার ৬৩৫ ডলার অবৈধভাবে গ্রহণের মাধ্যমে নগদ প্রণোদনা গ্রহণের চেষ্টা করেছে। তাই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ মো. মোস্তফা এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এসএ এন্টারপ্রাইজ: আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ১৫ হাজার ৪৯৬ কেজি ঘোষণায় একটি পণ্য চালান আমদানি করেন। পণ্য চালানটি কায়িক পরীক্ষায় ৪ হাজার ৪৪ কেজি পণ্য পাওয়া যায়। আলোচ্য চালানের মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৭১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩০ টাকা। এতে সরকারের প্রায় ৫৩ লাখ ৮২ হাজার ২০৩ টাকা রাজস্ব ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মো. শাহে আলমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলার অনুমোদন দিয়েছে এনবিআর।
রিফাত এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট: রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মিথ্যা ঘোষণায় রপ্তানির লক্ষ্যে বিল অব এক্সপোর্ট কাস্টম হাউস, চট্টগ্রামে দাখিল করে। পণ্য চালানটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হলে ঘোষণার চেয়ে ৪০ হাজার ৫৩ পিস পণ্য ঘোষণার অতিরিক্ত পাওয়া যায়। একই সঙ্গে আদেশে বিল অব এক্সপোর্ট সংশোধন সাপেক্ষে পণ্য চালানটি রপ্তানির অনুমতি প্রদান করা হয়। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মো. ইকবাল বেপারির নামে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।
গোলন্দাজ কনসোর্টিয়াম অ্যান্ড লাইনস: প্রতিষ্ঠানটি মিথ্যা ঘোষণায় রপ্তানির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে। পণ্য চালানটি কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার চেয়ে ৪৯ হাজার ৫৫৯ পিস পণ্য ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য পাওয়া যায়। যার মূল্য ১৮ হাজার ৩৩৬ ডলার। এই অর্থ প্রত্যাবাসিত হয়নি। যার কারণে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশের ভিত্তিতে অর্থ পাচার মামলার অনুমোদন দিয়েছে এনবিআর।
এস এস ফুড নারায়ণগঞ্জ: প্রতিষ্ঠানটি মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে ৮টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে। আলোচ্য বিল অব এক্সপোর্টসমূহ দাখিল করা হলেও প্রকৃতপক্ষে উল্লিখিত পণ্য রপ্তানি করা হয়নি। সরকারের নগদ প্রণোদনা প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের যোগসাজশে বিল অব এক্সপোর্টসমূহ দাখিল করেছে এবং সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা প্রণোদনাও গ্রহণ করেছে।
সাগর জুট ডাইভারসিফিকেশন ইন্ডাস্ট্রিজ: প্রতিষ্ঠানের পণ্যচালানটি কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার চেয়ে ২০ শতাংশ কম পণ্য রপ্তানির প্রমাণ মিলেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ১৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা প্রণোদনার গ্রহণ করার চেষ্টাও করেছে। এর মাধ্যমে ৯৮ হাজার ২৬২ ডলার অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করেছে বলেও প্রমাণ পেয়েছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি বিল অব এক্সপোর্টে ঘোষিত ওজনের চেয়ে দুই হাজার কেজি কম পণ্য পাওয়া যায়। এই পণ্য চালানটি রপ্তানির মাধ্যমে ৯২ হাজার ২৬২ ডলার অবৈধ অর্থ বৈধ করার চেষ্টাও ছিল। এ ছাড়াও আরেকটি পণ্য চালানেও ঘোষণার চেয়ে অনেক কম পণ্য রপ্তানির চেষ্টা করে প্রতিষ্ঠানটি। এতে ৯১ হাজার ৪৪২ ডলার সমপরিমাণ অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করেছে সাগর জুট ডাইভারসিফিকেশন ইন্ডাস্ট্রিজ। যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের প্রাথমিক সত্যতা মিলে। এনবিআরের এ-সংক্রান্ত বৈঠকে অর্থ পাচার মামলার অনুমোদন দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
মেসার্স সানফ্লাওয়ার: প্রতিষ্ঠানটি দুটি পণ্য চালানের মাধ্যমে ১ লাখ ৯২ হাজার কম ঘোষণায় পণ্য চালান আমদানি করেন। কায়িক পরীক্ষায় প্রায় ২৪ হাজার কেজি ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য পাওয়া যায়, যার কারণে আমদানিকারক এবং রপ্তানিকারক উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ পাচার মামলার অনুমোদন দেয় এনবিআর।
বিএইচকে টেক্সটাইল মিল: মিথ্যা ঘোষণায় বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে প্রতিষ্ঠানটি। শুল্কায়িত ও খালাসকৃত পণ্য চালানটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ঢাকা হাইওয়েতে আটক করা হয় এবং পরে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে পণ্য চালানটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষায় ঘোষিত পণ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৫ হাজার ৫০৮ লিটার মদ পাওয়া যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আমদানিকারকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দর থানায় ফৌজদারি মামলা করা হয়। আলোচ্য ক্ষেত্রে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত কাস্টমস এজেন্ট না হওয়া সত্ত্বেও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট জাফর আহমেদ ভুয়া নম্বর ব্যবহার করে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে এবং সিইপিজেডে উপস্থিত না হয়েই অনলাইন শুল্কায়ন সম্পন্ন করে।
হোসে টাইগার কোম্পানি লিমিটেড: পণ্য চালানটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ঢাকা হাইওয়েতে আটক করা হয় এবং পরে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে পণ্য চালানটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়েছে। কায়িক পরীক্ষায় ঘোষিত পণ্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৬ হাজার ১১৭ লিটার লিটার মদ পাওয়া যায়। পণ্য চালানের ক্ষেত্রে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণায় উচ্চ মূল্যের অবৈধ মদ আমদানি করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ইনভেন্ট্রি রিপোর্ট অনুযায়ী শুল্কায়নযোগ্যমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়। একই সঙ্গে ১৬ কোটি ১০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পণ্য খালাস গ্রহণ করে।
দিব্য এন্টারপ্রাইজ: পণ্য চালানটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার চেয়ে ৪৬ হাজার ৮১০ কেজি কম পাওয়া যায়। যার মাধ্যমে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি ১৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা বিদেশে অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টা করে। যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সুপারিশ করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তৎকালীন কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, রপ্তানি উৎসাহিত করতে সরকার বারবার সুবিধা দিয়ে আসছে। এতে আমদানি পর্যায়ে কড়াকড়ি থাকলেও রপ্তানি পর্যায়ে তেমন নেই, যার কারণে কিছু সুযোগ সন্ধানী চক্র সরকারের এই সুবিধার অপব্যবহার করছেন। পণ্য রপ্তানি না করেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রণোদনার অর্থ গ্রহণ করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা অনুসন্ধানে এমন কিছু তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে প্রমাণও পেয়েছি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলাও করেছি।
কেন এমন হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে এই কমিশনার বলেন, সাধারণত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের বিভিন্ন প্রাইভেট অফডকের মাধ্যমে রপ্তানি হয়ে থাকে। রপ্তানির স্বার্থে এসব অফডক থেকে কন্টেইনার বেরিয়ে যাওয়ার আগে এবং পরে বিল অব এক্সপোর্ট কর্মকর্তাদের আইডি থেকে গ্রিন করা হয়ে থাকে, যার কারণে সব পণ্য দেখার সুযোগ হয় না। অনেক সময় এসব অফডকে কর্মকর্তা উপস্থিতও থাকেন না। এক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে একটি আদেশও জারি করা হয়েছে, যাতে রপ্তানিবাহী কনটেইনার অফডকের গেট থেকে বেরুলেই বিল অব এক্সপোর্ট গ্রিন করা হবে। এতে ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে প্রণোদনা নেওয়ার সুযোগ কমে আসবে।