সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক নারীকে লাঠি দিয়ে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশে এক হিন্দু নারীকে দিনদুপুরে মারধর করা হচ্ছে। ওই পোস্টে বলা হয়, ‘হিন্দুদের জন্য বাংলাদেশ নরকের চেয়ে কম নয়।’
এ ধরনের আরও পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে।
তবে, স্ট্রিমের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি বাংলাদেশের হলেও ঘটনার প্রেক্ষাপট সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের নয়। এটি হবিগঞ্জের মাধবপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে মারধরের ঘটনার ভিডিও।
ভিডিওটির দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করে হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের ১২ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের সঙ্গে থাকা ছবির একটি দৃশ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে।
হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ জুলাই দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের মীরনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ২৪ বছর বয়সী মনিকা আক্তার। তাঁর স্বামী মো. ছোট্ট মিয়ার বিরুদ্ধে তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে।
আরও অনুসন্ধানে দেশ রূপান্তরে ১১ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে মনিকা আক্তারের অভিযোগের বরাতে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাঁর ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছিল। বাবার বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার পর আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয় ।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, খবর পেয়ে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। পরে ভুক্তভোগীর মা থানায় মামলা করেন।
যাচাই করা এসব প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর ধর্মীয় পরিচয়কে মারধরের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। হিন্দু পরিচয়ের কারণে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে, এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। বরং ভুক্তভোগীর অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্যে যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতনের প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে।