Image description

জাতীয় সংসদ ভবনের পবিত্র মসজিদ ও বিভিন্ন কক্ষের ছাদ চুইয়ে বৃষ্টিতে পানি পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের হুইপ জি কে গউছ। এই পানি পড়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করতে গিয়ে স্বয়ং স্পিকারের দায়িত্ব পালনকারী ডেপুটি স্পিকার নিজের ঘরের করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুধু সংসদ ভবনই নয়, বৃষ্টির দিনে তার নিজের ঘরের ছাদেও বাটি দিয়ে পানি আটকে রাখতে হয়।  

সোমবার (১৩ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি সংসদের নজরে আনেন হুইপ গউছ। 

হুইপ জি কে গউছ স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে এই মহান সংসদে নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তিসহ নানা ঘটনা ঘটেছে। অথচ যে ফোরামে সংসদ সদস্যরা অধিবেশন করছেন, ঠিক তার ওপরের তলাতেই রয়েছে মসজিদ। সেখানে অসংখ্য মুসলিম সংসদ সদস্য একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমানে মসজিদের সামনে সারিবদ্ধভাবে বালতি দিয়ে রাখা হয়েছে, কারণ ছাদ ফেটে অনবরত বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ করছে।”  

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে এই অধিবেশনে আমরা ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট অনুমোদন করেছি, সেখানে মসজিদের এই করুণ দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” অবিলম্বে ছাদ দিয়ে পানি পড়া বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তিনি। 

হুইপ জি কে গউছের এই বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার দুঃখ প্রকাশ করে রসিকতার ছলে বলেন, “আমরাও জেনেছি সংসদের ছাদ থেকে পানি পড়ে। তবে কষ্টের কথা কাকে বলবো, আমি আমার নিজের ঘরে ঘুমাতে গেলে ছাদের ওখানে বাটি দিয়ে রাখি সংসদ ভবনের নিজের বাড়িতেও।”  

 

এরপরই সংসদ কার্য পরিচালনাকারী চিফ হুইপ জানান, সংসদ ভবনে পানি পড়ার বিষয়টি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই গতকাল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ভবনের যতগুলো জায়গা থেকে পানি পড়ার সমস্যা রয়েছে, তা মেরামতের কাজ গতকাল থেকেই শুরু করেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  

চিফ হুইপের বক্তব্যের পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “চিফ হুইপ যে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কথা বললেন, সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তো পেছনেই বসে আছেন। তিনি যদি এই বিষয়ে কিছু বলতেন, তবে সবাই আশ্বস্ত হতে পারতেন এবং বৃষ্টির দিনে অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারতেন।” ডেপুটি স্পিকারের এই আহ্বানের জবাবে গণপূর্ত মন্ত্রী দাঁড়িয়ে বলেন, “চিফ হুইপ ইতোমধ্যেই এই বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। তারা ভবনের ছাদ সংস্কারে সর্বাত্মক বন্দোবস্ত গ্রহণ করছেন এবং খুব দ্রুতই এর স্থায়ী প্রতিকার হয়ে যাবে।”