জুলাই বিপ্লবে মাদরাসা ছাত্রদের ঐতিহাসিক অবদান ও আত্মত্যাগকে আড়াল করে ‘মাদরাসা প্রতিরোধ দিবস’ (প্রস্তাবিত) আয়োজনকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কুক্ষিগত করার অপচেষ্টায় ফুঁসে উঠেছে আলিয়া মাদরাসার ছাত্র সমাজ। কামিল মাদরাসার শীর্ষ বিদ্যাপীঠ তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা, দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা ও সরকারি ঢাকা আলিয়া মাদরাসাসহ দেশের প্রধান প্রধান আলিয়া মাদরাসাগুলোর কোনো প্রতিনিধিকে এই আয়োজনে যুক্ত না করায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরও এই আয়োজনের রূপরেখা তৈরির সময় আলিয়া ধারার মাদরাসাগুলোকে বাদ দেওয়ার একই ধরনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা তীব্র প্রতিবাদের মুখে ভেস্তে যায়। এবারও পরিকল্পিতভাবে আলিয়া ধারাকে ‘মাইনাস’ করার এই চক্রান্তে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আন্দোলনে সক্রিয় শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী, উত্তরা-টঙ্গী ও ডেমরাসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সব প্রবেশদ্বারে তা’মীরুল মিল্লাত, দারুন্নাজাত ও ঢাকা আলিয়ার ছাত্ররা সম্মুখভাগে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তা’মীরুল মিল্লাতের ৫ জন ছাত্র শহীদ হয়েছেন, যা দেশের যেকোনো একক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ত্যাগের নজির। এ ছাড়া দারুন্নাজাত ও ঢাকা আলিয়ার অসংখ্য ছাত্র রাজপথে রক্ত দিয়েছেন, কয়েক শত ছাত্র গুরুতর আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশেই কওমি ও আলিয়া মাদরাসার ছাত্ররা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
মাঠের এই অভূতপূর্ব ঐক্যকে ফাটল ধরাতে একটি মহল কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন আলেম সমাজ ও শিক্ষার্থীরা বলছেন:
"এই আয়োজন যদি শুধু কওমি মাদরাসাকেন্দ্রিক হতো, তবে এর নাম ‘কওমি প্রতিরোধ দিবস’ দেওয়া যেতে পারত এবং তাতে কারও আপত্তি থাকত না। কিন্তু যখন এর নামকরণ করা হচ্ছে ‘মাদরাসা প্রতিরোধ দিবস’, তখন সেখানে অবশ্যই তা’মীরুল মিল্লাত, দারুন্নাজাত ও ঢাকা আলিয়াসহ দেশসেরা আলিয়া মাদরাসার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। যার যতটুকু অবদান ও অংশীদারত্ব (স্টেক), তাকে সেই সম্মান ও স্বীকৃতি দিতে হবে।"
শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মুখে ঐক্যের কথা বলে পর্দার আড়ালে অনৈক্য, বিভেদ ও নতুন করে বৈষম্য তৈরির কোনো চক্রান্ত মেনে নেওয়া হবে না। জুলাই বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ঘরানার একক সম্পত্তি নয়; এটি দেশের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা ও মাদরাসা ছাত্রদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা। অনতিবিলম্বে আলিয়া মাদরাসাগুলোর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে আলেম সমাজের মধ্যকার এই কৃত্রিম দেয়াল ও বৈষম্য দূর করার জোর দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের ছাত্র সমাজ।