রাজনীতির শুরুটা ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে। এরপর ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার নয়াবাড়ি থেকে রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করা প্রবীণ এই রাজনীতিক আজ রবিবার ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জমির উদ্দিন সরকার। তার বাবা মৌলভী মুহম্মদ আজিজ বক্স ও মা বেগম ফখরুন্নেছা।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন
২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদে স্পিকার হিসেবে তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করার পর সংবিধান অনুযায়ী তিনি ২১ জুন ২০০২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন।
মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মোট পাঁচবার (১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৯ সালে) জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পঞ্চগড়-১, ঢাকা-৯, বগুড়া-৬ ও দিনাজপুর-১ আসন থেকে জনপ্রতিনিধিত্ব করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আবদুস সাত্তার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন মেয়াদে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবন
ব্যক্তিগত জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এক কন্যা (নিলুফার জমির) ও দুই পুত্রের (নওশাদ জমির ও নওফল জমির) বাবা। তার স্ত্রী নূর আখতার। তার ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।