Image description

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকায় ১০ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত ব্যক্তির জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা জানালেও জামায়াত বলছে, তিনি আমাদের নেতা নন। গত নির্বাচনে আমাদের কর্মী হয়ে কাজ করেছেন। তিনি এনসিপির নেতা। এনসিপি নেতারা বলছেন, আমরা তাকে চিনি না।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আজহার মিয়া মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের মেটংঘর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। ধর্ষণের দায়ে ইতোমধ্যে বাঙ্গরা বাজার থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১ জুলাই বেলা সাড়ে ৩টায় একই এলাকার বাসিন্দা আজাহার মিয়া কৌশলে ভুক্তভোগী শিশুকে নিজের পোলট্রি খামারের পাশে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যান। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত ঘর থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগী শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়।

ওই ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ভুক্তভোগীর বাবা বাঙ্গরা বাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয়রা জানান, জামায়াত নেতা আজহার এর আগেও এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি গ্রামের প্রভাবশালী হওয়ায় টাকা-পয়সা দিয়ে অপরাধ ধামাচাপা দেন। স্থানীয় হোমিওপ্যাথি ডাক্তার সেতু দেবনাথের চেম্বারে গিয়ে ধর্ষিত শিশুর রক্তপাত বন্ধ করা হয়। বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে সেতু দেবনাথও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, আজহার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি যে দলেরই হন না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে । অপরাধীদের কোনো দল হয় না । বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।

এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল মতিনকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এবং কুমিল্লা বিভাগের মুখ্য সংগঠক নাবিদ নওরোজ শাহ বলেন, তিনি আমাদের কর্মী নন । আমরা তাকে চিনি না ।

কুমিল্লা-৩ আসন (মুরাদনগর) থেকে জাতীয় সংসদে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা ইউসুফ হাকিম সোহেল আমার দেশকে বলেন, ৫ আগস্টের আগে তিনি বিএনপি করতেন । পরে এনসিপি করেছেন। গত জাতীয় নির্বাচনে আমাদের কর্মী হয়ে কাজ করেন।