Image description

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি ভাড়া বাসা থেকে সানজিদা আক্তার মারিয়া (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ঢাকা লালমাটিয়া মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ সংবাদ পাওয়ার মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় সংঘটিত এক তরুণী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলামকে (২১) গ্রেফতার করা হয়েছে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ গোড়ান এলাকার হাজী মসজিদের সামনে অবস্থিত একটি বাসা থেকে সানজিদা আক্তার মারিয়ার গলায় পাটের সুতলি প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হলেও পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, নিহত সানজিদা আক্তার মারিয়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার হাতকান্দা নয়াপাড়া গ্রামের মো. মহসিনের মেয়ে। প্রায় আট মাস আগে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সাইফুল ফুডপান্ডায় চাকরি করেন। 

এ ঘটনায় নিহতের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (১১ জুলাই) খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা হওয়ার পরপরই খিলগাঁও থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে শনিবার রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে অভিযান চালিয়ে নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খিলগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলামের বাবা-মাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলামকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই চান মিয়া বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসায় ফোন করেও সানজিদার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পরে তার স্বামী সাইফুল ইসলামকে ফোন করলে তিনি বাসায় গিয়ে দেখে আসতে বলেন। এরপর স্বজনরা দক্ষিণ গোড়ানের ভাড়া বাসায় গিয়ে সানজিদাকে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় তার স্বামী বাসায় ছিলেন না। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।