Image description
এনসিপি নিয়ে কিছু বললেই এনসিপি সংশ্লিষ্টরা এসে জিজ্ঞেস করেন, "আপ বাংলাদেশের কী খবর?"
ভ্যালিড কুয়েশ্চন। কিন্তু এই কুয়েশ্চেনের মধ্যেই এনসিপির দুরাবস্থার কারণ লুকিয়ে আছে।
কিভাবে?
 
আপ বাংলাদেশ অল্প সময়ে অনেক বেশি এক্সপান্ড করেছিলো এবং প্রায় সকল জেলায় আমাদের ফাংশনাল কমিটি গঠিত হয়েছিলো৷ জনগণের মধ্যে সেইভাবে বার্স্ট না হইলেও এই অল্প সময়েই সাংগঠনিকভাবে একটা মজবুতি অর্জন করতে পারছিলো আপ বাংলাদেশ।
 
কিন্তু এই যাত্রায় পার্টি পরিচালনায় আমাদের কোন ফাইন্যান্সিয়াল ব্যাক আপ ছিলো না। মিডিয়ার দিক থেকে সাপোর্ট ছিলো না৷ পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর মধ্যে আমাদের উত্থানের ব্যাপারে কোন কনসেনশাস ছিলো না।
 
আপ বাংলাদেশ সবমিলিয়ে তার এক্টিভলি ১০ মাসের কার্যক্রমে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা খরচ করতে পারছে৷
 
বিপরীতে এনসিপি আর নাগরিক কমিটি মিলিয়ে একেবারে কম করে হলেও অন্তত ২০০ কোটি টাকা এখন পর্যন্ত তারা খরচ করেছে৷
এনসিপিকে দল হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে খোদ ইন্টেরিম গভরমেন্ট, জামায়াত, বিএনপি সকলের সম্মিলিত কনসেনশাস ছিলো৷
মিডিয়া হাউজগুলা দায়িত্ব নিয়ে প্রতিনিয়ত এনসিপিকে রিলেভ্যান্ট রাখার চেষ্টা করেছে৷
 
এমনকি যারা আমাদেরকে এই টুকটাক ফাইন্যান্স করেছেন, তারাও প্রতিনিয়তই বলে গেছেন, এনসিপির সাথে মার্জ হয়ে যেতে৷ ওদেরকে "ভালোবেসে ভালো করে ফেলতে।"
তাদের হাতে ইন্টেরিমের ৩ জন উপদেষ্টা ছিলো, যারা সরাসরি দলটা বানাচ্ছেন। নাহিদ এনসিপির আহ্বায়ক হয়ে যাওয়ার পরে এই সংখ্যাটা দুইজন হয়েছে।
এই এতোসব এডভান্টেজ এবং রিসোর্স ব্যবহার করার পরে দলটা তার এক্টিভিটি ও পারফরম্যান্স তুলনা করতেছেন এমন একটা পলিটিক্যাল এন্টিটির সাথে, যারা এমনকি রাজনৈতিক দলই ফর্ম করতে পারে নাই৷
 
শুধুমাত্র ডিরেক্ট এক্সপেন্স বিবেচনায় যাদের থেকে অন্তত ৪০০ গুণ বেশি টাকা খরচ করতে পেরেছে দলটি৷
 
এবং গভমেন্টে এক্সেস, সোশ্যাল ক্যাপিটাল, মিডিয়া সাপোর্ট, সকল রাজনৈতিক দল এবং বুদ্ধিজীবীদের কনসেনশাসের হিসাব ছাড়াই এই দলটা এই বিশাল অর্থনৈতিক ব্যয়ভার বহন করতে পারতেছে৷
শুধুমাত্র রূপায়ন টাওয়ার অফিস ভাড়া ও মেইনটেইন্স বাবদই প্রতি মাসে দলটা অন্তত ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করতেছে, যেখানে আমাদেরকে মাসিক মাত্র ৫০ হাজার টাকার অফিস ভাড়া ও মেইনটেইন্স বহন না করতে পেরে কেন্দ্রীয় অফিস ছেড়ে দিতে হয়েছে।
 
রাজনীতি অনেক সময়েই শেয়ার মার্কেটে দরপতনের মতোন ঘটনা। শেয়ার মার্কেট যখন কলাপ্স করা শুরু করে, তখন যতটুক আপনার লস হয়েছে, এইটা মেনে নিয়েই ইমিডিয়েটলি মার্কেট থেকে বের হয়ে যাইতে হয়। মার্কেটটা স্টাবল হওয়ার পরে আবার ফিরতে হয়৷ অনেকেই এইটা করতে পারে না, কারণ তার যতটুক ইনভেস্টমেন্ট লস হয়েছে, এইটা সে এফোর্ড করতে পারে না৷ ফলে সে মার্কেটে থেকে যায় এবং লিটারালি ডেস্ট্রয়েড হয়ে যায়৷
 
আপ বাংলাদেশ মার্কেট থেকে তাই ক্যুইট করেছে৷ আমরা বুঝতে পেরেছি, এখন আমরা যা ইনভেস্ট করবো, সব লস হবে৷ ফলে আমরা আমাদের "মোড অফ অপারেশন" চেঞ্জ করেছি৷ আপ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলে পরিণত হওয়ার আর কোন রিয়েলিটি এই মুহুর্তে হাজির নাই৷ আমাদেরকে এখন তাই এই রিয়েলিটি মেনে নিয়ে এক্টিভিজম-বেইজড পলিটিক্সে শিফট করতে হবে৷ কিন্তু এক্টিভিজম পলিটিক্সের সঠিক সময়ও এখনো আসে নাই৷ ফলে আমরা মূলত অপেক্ষা করতেছি৷ মার্কেটে ক্যাপিটাল ইনজেক্ট করার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা৷
তো, ৫০ লক্ষ টাকার একটা ইক্যুটির সাথে ২০০ কোটি টাকার ইক্যুইটি যখন পারফরম্যান্স তুলনা করে, তখন বুঝা-ই যায়, ২০০ কোটি টাকার ইক্যুটি ভয়াবহ লসে আছে৷ যে কোন সময় পুরোপুরি কলাপ্স করবে৷
 
বাই দ্য ওয়ে, শুধুমাত্র ফাইন্যান্সিয়াল ইনভেস্টমেন্টের বিচারে এনিসিপির ROI (Return on Investment) তুলনায় আপ বাংলাদেশের ROI অনেক বেশি high. এবং ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টের প্রপার ইউটিলাইজেশনের বিবেচনায়ও আপ বাংলাদেশ অনেক অনেক গুণ বেশি ইফিশিয়েন্ট৷