টানা ভারি বর্ষণে বান্দরবানের মেঘলা তালুকদারপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ের মাটি ও বিশাল আকৃতির গাছ উপড়ে প্রধান সড়কের ওপর এসে পড়েছে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে কেরানীহাট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সোয়া ৯টার দিকে এই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আটকে পড়া যাত্রীরা জানান, সকালে হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং সড়কের পাশের বিশালাকৃতির গাছ উপড়ে গিয়ে প্রধান সড়কের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে বাস, ট্রাক, দূরপাল্লার মাইক্রোবাসসহ অসংখ্য যানবাহন দীর্ঘ সারিতে আটকা পড়ে। আকস্মিক এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলে আটকে পড়া একজন বাসযাত্রী বলেন, “আমি বান্দরবান থেকে বাঁশখালী যাওয়ার উদ্দেশে বাসে রওনা দিয়েছিলাম। মেঘলা তালুকদারপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পরই বিকট শব্দে পাহাড় ধসে বিশাল গাছ ও মাটি রাস্তার ওপর পড়ে। আমাদের গাড়িসহ অনেক যানবাহন আটকে যায়। কিছু সময়ের জন্য সবাই খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।”
আরেক যাত্রী জরুরি কাজে কেরানীহাট যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন। তিনি বলেন, “গাছ পড়ে রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে এখানে নারী ও শিশুদের নিয়ে আটকে আছি।”
দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে খবর পেয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে।
বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, “রাস্তার ওপর পড়ে থাকা বিশাল গাছ ও মাটি অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।”
এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজন ছাড়া পাহাড়ি সড়কে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিতে বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে বা আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
শীর্ষনিউজ