নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলন ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পা ধরে অনুরোধ করছেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
গত প্রায় ২০ দিন ধরে দিল্লিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায় নির্ধারণ, শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না।
ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে অভিজিৎ দীপকে দাবি করেছেন, ভারি বৃষ্টির কারণে আন্দোলনস্থলে একটি ত্রিপল বা অস্থায়ী ছাউনি বসানোর অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। কয়েকদিন ধরে দিল্লিতে তুমুল বৃষ্টি চলায় আন্দোলনকারীদের বিছানা, কাপড় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভিজে যায়।
তার অভিযোগ, বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সামান্য ত্রিপল বসানোর অনুমতিও মেলেনি। সেই কারণেই তিনি পুলিশের কাছে অনুরোধ জানাতে বাধ্য হন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বারবার আন্দোলনকারীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরছেন।
এদিকে আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ সমাজকর্মী তথা বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক। ২৮ জুন থেকে তিনি অনশন শুরু করেন। অনশনের ১৩ দিনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং দীর্ঘ অনশনের প্রভাব শরীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবুও তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্পে অনড়।
আন্দোলনকারীদের মতে, এই আন্দোলন কোনও ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এবং জবাবদিহির দাবিতে। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
পুলিশ কর্মকর্তার পা ধরে অনুমতি চাওয়ার সেই মুহূর্ত এবং অনশনে দুর্বল হয়ে পড়া সোনম ওয়াংচুকের ছবি এখন আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, দেশের রাজধানীতে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে এসে আন্দোলনকারীদের কেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আন্দোলন যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই এই প্রশ্ন এবং বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য যে, আন্দোলন যত দীর্ঘ হচ্ছে ততই বিভিন্ন মহলের সমর্থন বাড়তে শুরু করেছে। প্রথম থেকেই আন্দোলনের পাশে দাড়ান শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। পরে তিনি নিজেই আমরণ অনশনে বসেন। অভিনেতা প্রকাশ রাজও প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।
এরপর যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি ও বর্ষীয়ান নেত্রী বৃন্দা কারাত। সাম্প্রতিক সময়ে আন্দোলনস্থলে গিয়ে সংহতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সিপিআই(এম)-এর রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাসও।
এছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) ছাত্রনেতা-নেত্রী, বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধি, চাকরিপ্রার্থী, ছাত্রছাত্রী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।