Image description

ফরিদপুরে টেপাখোলা এলাকায় অবস্থিত সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) হোমের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী (১২) ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।  

Advertisement

এ ঘটনায় অভিযুক্ত দর্জি দোকানের মালিক মো. ওয়াহিদ শেখকে (৫৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

গ্রেফতার ওয়াহিদ শেখ সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে।

এদিকে, সরকারি হোমে আশ্রিত শিশুর সুরক্ষায় চরম অবহেলার অভিযোগে বুধবার (৮ জুলাই) সমাজসেবা অধিদফতরের উপসচিব (পরিচালক, প্রশাসন-অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্বাবধায়কসহ (সহকারী পরিচালক) ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। 

বরখাস্তরা হলেন- সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) হোমের সহকারী পরিচালক (তত্বাবধায়ক) মো. হাবিবুর রহমান, সহকারী পরিচালক শামসুন্নাহার আক্তার, সহকারী পরিচালক তানিয়া তাজরীণ, মেট্রন কাম নার্স মনি আক্তার ও কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস। 

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বিকালে ওই এলাকার এক দর্জির দোকানের মালিক মো. ওয়াহিদ শেখ কিশোরীকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে এক পর্যায়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকলেও, গত ৬ জুলাই মেয়েটির শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে পুরো ঘটনাটি জানাজানি হয়। পরে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেফতার করে।   

 

 

হোমের অভ্যন্তরে থাকা একটি কিশোরীর এমন শারীরিক অবস্থা তৈরি হওয়া এবং তা কর্তৃপক্ষের নজরে না আসা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।  

স্থানীয় ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, যারা এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সাময়িক বরখাস্তের মধ্যেই এই পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধ আড়াল করার কোনো প্রমাণ মিললে কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না। একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রতি এমন জঘন্য অপরাধের দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করাই হবে ভুক্তভোগীর প্রতি ন্যূনতম ন্যায়বিচার।

ফরিদপুর সমাজসেবা কার্যালয়ের তত্বাবধায়ক আরিফুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ডিডি) এহিয়া তুজ জামান যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সহকারী পরিচালক আরিফুর রহমানসহ ৬ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে আরিফুর রহমানের স্থলে সেফ হোমের তাহসিনা জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।