পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ অন্তত ১৭ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে যৌথ বাহিনীর এই বিশেষ অভিযানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ জনে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।
সূত্রটি জানায়, মাঙ্গি ড্যাম পুলিশ স্টেশনে সন্ত্রাসী হামলার পর এই চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি) ও বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করছে।
গত বুধবার দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, চেকপয়েন্টে হামলার পর পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করেন। প্রাথমিক এই সংঘর্ষে ১৫ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে। ওই সংঘর্ষে ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
তিনি বলেন, গত ৬ জুলাই থেকে জিয়ারতের পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর এই সংঘর্ষ চলছিল। ঘেরাও কঠোর হলে জঙ্গিরা জিম্মি থাকা আরও ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে। সব মিলিয়ে মাঙ্গি চেকপয়েন্ট হামলায় ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়।
এদিকে নিরাপত্তা সূত্র আজ শুক্রবার আরও জানিয়েছে, খুজদার এলাকার একটি পুলিশ স্টেশনেও সন্ত্রাসীদের হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। এর জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও এফসি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে আটজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক একটি হেলিকপ্টার অভিযানে আরও পাঁচ থেকে ছয়জন জঙ্গি নিহত হয়।
গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন শাবান’ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অন্যান্য অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ৭৯ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক তিনটি সন্ত্রাসী হামলায় নিরাপত্তা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকসহ ৪২ জন নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বৃহস্পতিবার কোয়েটায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক প্রাদেশিক শীর্ষ কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বেলুচিস্তানে ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসী হামলাগুলোর পেছনে পাকিস্তানের ‘পূর্ব প্রতিবেশী’ রয়েছে এবং পাকিস্তানে হামলা চালানোর জন্য আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। শত্রুরা পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য হজম করতে পারছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের শেষ সন্ত্রাসী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে।