Image description

ইরানের পাঁচ প্রদেশে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক দফায় দফায় বিমান হামলার পর, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থবির হয়ে পড়া যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। নতুন করে এই আলোচনা শুরু করার পরিবেশ তৈরি এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমানে ইরানে অবস্থান করে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বলে জানা গেছে।

 

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হওয়ার পর এই নতুন উত্তেজনা হ্রাসের তৎপরতা শুরু হলো। উত্তর ইরানের বিমানবন্দর, লজিস্টিক নেটওয়ার্ক, সামুদ্রিক নজরদারি কেন্দ্র এবং রেলওয়ে অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো চালানো হয়। 

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই সাম্প্রতিক হামলা দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে, যেখানে তিনি একতরফাভাবে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকটি  বাতিল ঘোষণা করেন। ফলস্বরূপ, ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন যে এই সমঝোতা কোনো বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি ছিল ‘প্রতিশ্রুতির বিপরীতে প্রতিশ্রুতি’ রক্ষা করার একটি বিষয়।

 

 

উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকযাত্রা চলাকালীন কোনো ধরনের হামলা না চালানোর যে প্রতিশ্রুতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তিনি তা থেকে সরে এসেছেন। 

ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প নিজের দেওয়া কথা ভঙ্গ করেছেন এবং মাশহাদ শহরে যখন সর্বোচ্চ নেতার দাফন কার্য সম্পন্ন হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে মার্কিন বাহিনী এই বিমান হামলা পরিচালনা করে।

সূত্র: আল-জাজিরা।