Image description

‎গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে ‘জ্বীনের বাদশা’ পরিচয়ে ধর্ষণকারী ভন্ড কবিরাজ বিপুলকে (২৩) গ্রেফতার করেছে কাশিমপুর থানা পুলিশ।  

Advertisement

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়। 

গ্রেফতার বিপুল গাইবান্ধা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও গাজীপুরের কাশিমপুর চক্রবর্তী এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। 

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিনগত রাত ২টার দিকে গাজীপুর মহানগরের ২নং ওয়ার্ডের কাশিমপুর চক্রবর্তী এলাকায় প্রথমে এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগী একাধিক নারীর জবানবন্দি নিয়ে তাকে আটক করে থানা নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী এক নারী বলেন, ‘আমার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে এই ভন্ড কবিরাজ ফোন দিয়ে আমার বাস্তব জীবনের নানা সমস্যার কথা জানিয়ে আমাকে চিকিৎসার কথা বলে এক ফ্ল্যাটে নিয়ে গলায়, কোমরে এবং বিভিন্ন জায়গায় তাবিজ বেঁধে রেখে আমাকে ধর্ষণ করে। আমি বাধা দিতে গেলে তিনি জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে আমার বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয়। ’

তিনি বলেন, ‘আমি যেন এই ঘটনা কাউকে না বলি, এজন্য শপথ করিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। এরপর আমাকে একটা ফ্ল্যাটে তিন দিন রেখে আমার সব মালামাল একটা রুমে নিয়ে যায়। এরপর আমাকে কী কী করেছে- সব বলতে পারি না। ’

ভুক্তভোগী আরেক নারী বলেন, ‘আমার শাশুড়ি নাকি আমাকে কয়েক বছর যাবৎ কবিরাজি করে রাখছে। আমার নাকি বড় ক্ষতি হয়ে যাইব- এসব কথা বলে আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। 

তিনি বলেন, তখন আমি জ্বীনের বাদশা পরিচয় দানকারী ওই ভন্ড কবিরাজকে বলছিলাম কী করলে এটা সমাধান হইব? তখন তিনি আমারে ডেকে নিয়ে চিকিৎসার কথা বলে আমাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করার আগে আমাকে তিনি বলেন, আমি যেন কাউকে বলে না দেই। এজন্য বিপুল আমাকে শপথ করায় এবং ধর্ষণের ভিডিও করে রাখে। ওই সময় আমার নাকের, গলার ও কানের গহনা খুলে নেয়। আমি এর সঠিক বিচার চাই। 

 

 

কাশিমপুর থানার ওসি মোল্লা খালিদ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে এই বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যাই। পরে ভুক্তভোগী নারীদের জবানবন্দি নেই। এলাকাবাসীদের কাছ থেকে তথ্য নেই। অভিযুক্ত জ্বীনের বাদশা পরিচয় দানকারী ভন্ড কবিরাজের মোবাইল চেক করে দেখা যায়, একাধিক নারীদের সঙ্গে এরকম ধর্ষণের ভিডিও। চিকিৎসার কথা বলে এভাবেই অনেক নারীদের ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। 

তিনি বলেন, যেন এসব ঘটনা কাউকে না বলে এভাবেই নারীদের শপথ করিয়ে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করত অভিযুক্ত বিপুল। 

ওসি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে আসি এবং আজ (শুক্রবার) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় সেই ভন্ড কবিরাজকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।