গত ফেব্রুয়ারি মাসেই সিলেট জেলার ‘শ্রেষ্ঠ ওসি’ নির্বাচিত হয়েছিলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খান। কিন্তু চার মাসের ব্যবধানে সেই কর্মকর্তার নামে উঠেছে নানা অভিযোগ। এজন্য তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে সংযুক্ত করা হয়েছে পুলিশ লাইনসে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেকের সই করা এক আদেশে প্রত্যাহার করা হয় তাকে।
পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন জানায়, শফিকুলের বিরুদ্ধে চোরাকারবারি ও অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীদের সহযোগিতা, অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে পাথর পরিবহনে সহায়তা করতেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, মাঝে মাঝে রাতে ‘ওসির লাইন’ নাম দিয়ে শাহ আরেফিন টিলা এলাকা থেকে ট্রাক্টরে পাথর পরিবহন করা হতো ভোলাগঞ্জে। সর্বশেষ গত ১৭ মার্চ রাত ৩টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এভাবে নির্বিঘ্নে পাথর পরিবহন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, অর্থ আদায় করা হতো প্রতিটি ট্রলি থেকে। সেই অর্থের একটি অংশ পেতেন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিও।
এর আগে ‘ওসির লাইন’ এবং প্রতি ট্রলি থেকে ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠে ওসি শফিকুলের বিরুদ্ধে। তখন অস্বীকার করে তিনি বলেছিলেন, ‘পুলিশ কোনো টাকা নেয় না এবং তার নামে কোনো লাইন পরিচালিত হয় না। অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
তবে সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বালু ও পাথর সিন্ডিকেটের কাছ থেকে পুলিশের নামে চাঁদা আদায়ের কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।
পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, শফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেই তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে সংযুক্ত করা হয়েছে পুলিশ লাইনসে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শফিকুল ইসলাম খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।