Image description

প্রতিষ্ঠার ৮০ বছর পেরিয়েছে দেশের চিকিৎসা শিক্ষার সূতিকাগার ও স্বাস্থ্যসেবার সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। শুক্রবার (১০ জুলাই) গৌরবের ৮১তম বর্ষে পদার্পণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বয়সে অশীতিপর হলেও দুর্বার দুঃসাহসে দেশের প্রতিটি দুর্যোগে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে অজস্র সুনাম কুড়িয়েছে সর্ববৃহৎ এই একাডেমিক হাসপাতাল।

তবে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থান সংকুলানের অভাব। প্রতিদিন হাজারো রোগীর ঢল নামে হাসপাতালটিতে, যা সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। হিমশিম খায় সোয়া একশ বছরের পুরোনো স্থাপত্যটিও। এছাড়া নানা কারণে চিকিৎসকদের সংখ্যাও বাড়তি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৮০ বছরের গৌরবময় অধ্যায়
ঢামেক হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ পর্যায়ে ১৯৪৬ সালে। ওই বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ যাত্রা শুরু করে। প্রথমে হাসপাতালটি কলেজের অধীনে পরিচালিত হতো। সত্তরের দশকে পৃথক প্রশাসনের অধীন পরিচালনা শুরু হয়।

৮০ বছর ধরে সাধারণ চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নানা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে অসহায় রোগীর আশ্রয়স্থল হয়েছে ঢাকা মেডিকেল। এর বাইরেও প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কলেজের পাশাপাশি হাসপাতালটিও বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ‌অভ্যুত্থান থেকে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব— এই প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে আছে রক্তাক্ত সাক্ষী হয়ে। 

সর্বশেষ জুলাই গণ‌অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী শাসনকাঠামোর বারুদ-বুলেটের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো দুঃসাহসী তরুণ-যুবক, ছাত্র-শ্রমিক আর নারী ও শিশুর আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়ায় প্রতিষ্ঠানটি। নিবিড় মমতায় বিপ্লবীদের ক্ষত সারিয়ে তোলেন চিকিৎসক-নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রতিষ্ঠার ৮০ বছরে দেশের মানুষের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের অনন্য স্বীকৃতিও পেয়েছে হাসপাতালটি। সর্বশেষ চলতি বছর সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ও যোগ হয়েছে এর ঝুলিতে।

ঝুঁকিতে সোয়াশ’ বছরের দুর্গ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ভবনটি ১৯০৫-০৬ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয়। এটি ছিল পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের সচিবালয়। তবে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ভবনটি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে এ ভবনে কলা অনুষদ, হোস্টেল, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক দপ্তর স্থাপিত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৩-৪৫ সালে মিত্রবাহিনীর চিকিৎসার জন্য ভবনটি আমেরিকান বেজ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যুদ্ধ শেষে ভবনটি সংস্কার করে প্রতিষ্ঠা করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। 

বর্তমানে মূল ভবনটির পাশে ১০ তলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে হাসপাতালের তথ্য বলছে, ২৬০০ শয্যার এই হাসপাতালের ২০০০ শয্যাই পুরোনো মূল ভবনে, যেখানে প্রতিদিন প্রায় চার হাজারের বেশি রোগী ভর্তি অবস্থায় থাকেন। পাশাপাশি বাহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগসহ ৪০টি অপারেশন থিয়েটার ও বৃহৎ আইসিইউ ইউনিট এই ভবনেই রয়েছে।

প্রতিদিন গড়ে ৫০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি, ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং বহির্বিভাগে (ওপিডি) প্রায় ৫ হাজার রোগী সেবা গ্রহণ করায় হাসপাতালটির শয্যা দখলের হার (বেড অক্যুপেন্সি রেট) ১৩৩ শতাংশ। এছাড়া অপারেশন থিয়েটারগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ৫০ হাজার মেজর এবং ৩৫ হাজার মাইনর অপারেশন সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালটির নীতি হলো জরুরি রোগীকে ফিরিয়ে না দেওয়া এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখা।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মূল ভবনটিতে ২ হাজার শয্যার ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিদিন প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকেন। কোনো কোনো ওয়ার্ডে শুধু কক্ষের মেঝেই নয়, বাইরের পুরো করিডোর, এমনকি লিফট কিংবা সিঁড়ির সামনের অংশও থাকে রোগীর দখলে। টয়লেটের সামনের অংশেও দেখা গেছে রোগীর বেড। 

তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি হাসপাতালের প্রধান অবকাঠামো হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বয়স, ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবার চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নথিপত্র বলছে, ২০১০ সালে তৎকালীন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শহিদুল হক মল্লিক ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে তিনি ভবনটি ঝুঁকিমুক্ত কিনা, তা সরেজমিনে পরিদর্শন ও কারিগরি জরিপের অনুরোধ জানান। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ভবনের আংশিক অংশ অপসারণ করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসরণে ভূমিকম্প-সহনশীল বহুতল ভবন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে একটি খসড়া কর্মপরিকল্পনা তৈরিরও অনুরোধ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তর ওই জরিপে হাসপাতালের মূল ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে রাজধানী ঢাকায় ৩২১টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ওই সময় ওই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এই তালিকায় থাকা হেরিটেজ ভবনগুলোর ক্ষেত্রে রেক ফিটিংয়ের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় ছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনও।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ফায়ার সার্ভিস ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার (এনএসআই) যৌথ পরিদর্শনেও হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন অংশে গুরুতর অগ্নিনিরাপত্তা ঘাটতি, অপর্যাপ্ত জরুরি নির্গমনপথ, মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ পরিচালনার বিষয় উঠে আসে।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের নভেম্বরে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের পর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ভবনটি পরিদর্শন করে সেই মূল্যায়ন পুনর্ব্যক্ত করে। ওই সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, যে কোনো ভবন ৫০ বছরের পর ব্যবহারের অনুপযোগী অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ভবনটির বয়স শত বছর অতিক্রম করেছে। এই ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সময়ই মূল হাসপাতাল ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সময় রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আহতও হয়েছেন।

২০ কোটি টাকা আমরা খেয়ে ফেলিনি'

রোগীর মতোই ওভারলোড চিকিৎসকের, ঘাটতি অন্যান্য কর্মচারীর
শুধু ২৬০০ শয্যার হাসপাতালে ৫০০০ রোগীই নয়, নিয়োগপ্রাপ্ত এক হাজার চিকিৎসকের জায়গায় হাসপাতালটিতে রয়েছেন তিনগুণ চিকিৎসক। যদিও নার্স কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী সে তুলনায় অনেক কম।

তথ্য বলছে, বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ২০০ চিকিৎসক রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটিতে। এর মধ্যে হাজারখানেক চিকিৎসক নিয়োগপ্রাপ্ত, যার প্রায় অর্ধেক কলেজের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক। এ ধরণের চিকিৎসক রয়েছেন ৪২০ থেকে ৪৪০ জন। এর বাইরে বড় একটি অংশ মূলত পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসক।

অপরদিক প্রতিষ্ঠানটিতে বিপুল এই চিকিৎসক সংখ্যার বিপরীতে পর্যাপ্ত নার্স এবং অন্যান্য কর্মচারীর ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন নার্স এবং পাঁচজন সহায়ক কর্মী থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ঢামেক হাসপাতালে এই চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত।

ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন নার্স এবং অন্যান্য কর্মচারী রয়েছেন প্রায় এক হাজার ২০০ জন।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক এফসিপিএস ও অন্যান্য পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী ঢামেকে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী হওয়ায় অনেক ইউনিটে রোগীর চেয়ে চিকিৎসকই বেশি হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রশিক্ষণের মান, রোগীর গোপনীয়তা ও সেবার পরিবেশ— সবকিছুর ওপরই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপরও।

মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢামেক হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠা একটি একাডেমিক হাসপাতাল হিসেবে। এর মূল উদ্দেশ্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। তবে সে স্থান বর্তমানে দখল করেছেন পোস্টগ্রাজুয়েশন পর্যায়ের চিকিৎসকরা। 

আবারও ৪ হাজার শয্যার নতুন ডিপিপি
রোগীর চাপ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পুরোনো ভবনের ঝুঁকির বাস্তবতা মোকাবিলায় ২ হাজার ৬০০ শয্যার হাসপাতালকে ৪ হাজার শয্যায় উন্নীত করতে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামীকাল শনিবার ঢামেকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এমন দাবি উত্থাপন করার কথা প্রতিষ্ঠানটির।

যদিও হাসপাতালটির এমন প্রস্তাব নতুন নয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫ হাজার শয্যায় উন্নীত করার একটি মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। আনুমানিক ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ওই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা ছিল। হাসপাতালের ১০৮ দশমিক ৫ বিঘা জমিতে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, লাইব্রেরি, সেমিনার ও ডরমেটরির জন্য মোট ২৭টি ভবন নির্মাণের কথা ছিল। এর মধ্যে ১৭ তলাবিশিষ্ট ছয়টি হাসপাতাল ভবন ও আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য ভবন ২০ তলাবিশিষ্ট হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। হাসপাতালে দুটি জরুরি বিভাগ এবং দুটি আউটডোর থাকার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, নতুন পরিকল্পনায় বর্তমান ক্যাম্পাসেই ধাপে ধাপে বহুতল আধুনিক ভবন নির্মাণ করে পুরোনো ভবন প্রতিস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর অন্য একটি উপযুক্ত স্থানে, সম্ভাব্যভাবে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায়, আরও প্রায় ২ হাজার শয্যার একটি হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাবও রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি ঢামেকের ওপর অতিরিক্ত চাপও কমবে।

তিনি বলেন, আগে ৫ হাজার বেডে উন্নীত করার কথা হচ্ছিল। কিন্তু এখানে জায়গা কম। ৫ হাজার বেড হলে রোগী থাকবে ৭ হাজার, তখন এটা আনম্যানেজেবল (নিয়ন্ত্রণ অযোগ্য) হয়ে যাবে। কারণ আশেপাশের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টসহ অনেক কিছুই হাসপাতালের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

পরিচালক বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে ৪ হাজার বেড, আর আশেপাশে কোন জায়গায় হয়ত একটা ২০০০ বেডের হাসপাতাল— যেমন প্রাক্তণ জেলখানার জায়গা আছে। ওখানে যদি আরেকটা ২ হাজার বেডের হাসপাতাল করা যায়, সেক্ষেত্রে ৬ হাজার হয়ে যাবে। এটা আমরা ওনাকে (প্রধানমন্ত্রী) জানাব, যাতে গুরুত্বটা পায় এবং এই অর্থবছরে যেন একনেকে পাস হয়। আমাদের পক্ষ থেকে আরো কিছু দাবি থাকবে।

Dhaka Medical College Campus view।।ঢাকা মেডিকেল কলেজ  ক্যাম্পাস।।@ShashwataChandan

নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে পুরনো ভবনটি ধাপে ধাপে রিপ্লেস করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথমে একটা ভবন হবে ১৫ থেকে ২০ তলা। বেসমেন্ট থাকবে দুইটা বা তিনটা করে। সেখানে পুরনো ভবনের একটা অংশ আমরা শিফট করব। তারপরে আরেকটা ভবন হবে। এভাবে ধাপে ধাপে পুরনো ভবনের কার্যক্রম ওদিকে নিয়ে যাওয়া হবে।

বর্তমান হাসপাতাল ভবনের সংকট প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, আমাদের মূল সীমাবদ্ধতা হলো স্পেস। আমাদের জায়গা নাই বা হাসপাতালে সবাইকে আমরা বিছানা দিতে পারছি না। এটা একটা বড় প্রতিবন্ধকতা।

সেবাগ্রহীতাদের অপব্যবহারের ফলে প্রায় শর্ট সার্কিটের ঘটনা ঘটছে বলেও জানান উপাচার্য। জানান, মুঠোফোন চার্জ কিংবা অতিরিক্ত ফ্যান নিয়ে আসা— এসব কারণে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি একটা চিঠি লিখেছি পিডব্লিউডিকে (গণপূর্ত অধিদপ্তর), যেন এই সমস্যার একটা ব্যবস্থা করা যায়। আমরা এগুলো নিয়ন্ত্রণেরও চেষ্টা করছি।

ডা. আসাদুজ্জামান আরও জানান, কর্মচারী সংকটের পাশাপাশি চাহিদার তুলনায় স্বল্প বাজেটও হাসপাতালটির জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। আমার যা দরকার, তার ধরেন অর্ধেক।

অতিরিক্ত চিকিৎসক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক একটা ইউনিটে ৫০-৬০ জন করে ডাক্তার হয়ে গেছে। যেখানে রোগী আছে হয়ত ৩০ জন বা ৪০ জন, ডাক্তার আছে ৫০ জন বা ৬০ জন। ফলে তাদের ট্রেনিংটা ভালো হচ্ছে না। একই সাথে একটা রোগীকে কতটা ইরিটেট করা যায়? সবাই রোগীকে দেখতে চায়। ৫০ জন চিকিৎসক থাকলে যদি ৫০ বার যায়, তাহলে সে রোগী বিরক্ত হবে না? ফলে ঢাকা মেডিকেলের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ট্রেইনি চিকিৎসকদের অ্যালটমেন্ট হওয়া প্রয়োজন।