Image description

নির্বাচনের পাঁচ মাস পর শপথ নিচ্ছেন চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপিদলীয় বিজয়ী প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় তাকে শপথ বাক‌্য পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। একইসঙ্গে আদালত জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তার শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।

 
 

আদালতে সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির এবং আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

 
 

মামলার নথি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সারোয়ারের প্রার্থিতা বাতিল করে।

 

এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করলে গত ২৭ জানুয়ারি আদালত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন। তবে পরবর্তীতে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল মঞ্জুর হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনের ফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়।

এর মধ্যেই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।

পরে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ আপিল নিষ্পত্তি করে দ্রুত রুলের শুনানি শেষ করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২ জুলাই শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।

আজকের রায়ে হাইকোর্ট সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করায় চট্টগ্রাম-২ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তার শপথ গ্রহণে আর বাধা থাকল না। এরই ধারাবাহিকতায় ইসি শপথ পড়ানোর নির্দেশনা প্রদান করেছে।

রায়ের পর সারোয়ার আলমগীরের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ, সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের ইসির আদেশ অবৈধ এবং তার প্রার্থিতা বৈধ ছিল। ফলে তার ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথ নিতে আইনগত বাধা নেই।’