মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (৮ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আইরিন খান ২০২০ সালের ১ আগস্ট থেকে জাতিসংঘে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার (দূত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৩ সালে এই পদ চালু হওয়ার পর থেকে তিনি প্রথম নারী হিসেবে এ দায়িত্ব পান। তিনি বর্তমানে জেনেভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে শিক্ষকতা করছেন।
২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইরিন খান। প্রথম নারী হিসেবে সংস্থাটির নেতৃত্ব দেন তিনি। তার অধীনে অ্যামনেস্টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ জোরদার করে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার বিষয়গুলোও তাদের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়। নারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধে অ্যামনেস্টির প্রথম বৈশ্বিক প্রচারণাও শুরু হয়েছিল তারই হাত ধরে।
এদিকে উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেতে যাওয়া বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান একজন শিক্ষা, ব্যাংকিং, জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) থেকে ১৯৯১ সালে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে স্নাতক এবং ১৯৯২ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পেশাগত জীবনের শুরুতে ব্যাংকে সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করলেও পরে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন তিনি; প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আজিজুল হক কলেজ ও ঢাকা কলেজে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘ সময় (২০০২-১৫) কর্মরত ছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি জুনিভান হোল্ডিং ইনস ডট-এ ডিজিটাল মার্কেটিং পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যাংকিং ও রিমোট সেন্সিং বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে ওয়াহিদুজ্জামানের। এছাড়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা ও অভিবাসন বিষয়ক বহু আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। পাশাপাশি পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ভূগোল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধও লিখেছেন তিনি।