দেশের আদালতগুলোতে বর্তমানে ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ লাখ ১৩ হাজার ২৬৩টি দেওয়ানি ও ২৮ লাখ ২৬ হাজার ২১৩টি ফৌজদারি। এক বছরে উচ্চ আদালতে ৬৩ হাজার ৩০৯টি এবং অধস্তন আদালতে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ২১ হাজার ৬৫২টি দেওয়ানি ও ১৭ হাজার ৬১টি ফৌজদারি মামলাসহ মোট ৩৮ হাজার ৭১৩টি মামলা বিচারাধীন আছে। এ ছাড়া হাইকোর্ট বিভাগে ১ লাখ ১ হাজার ১৬৮টি দেওয়ানি ও ৪ লাখ ২১ হাজার ১৬৩টি ফৌজদারি মামলাসহ মোট ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১টি মামলা বিচারাধীন আছে। ২০২৫ সালে আপিল বিভাগে ৭ হাজার ৫৫৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে; যার মধ্যে দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি এবং ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি। গত এক বছরে মোট ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে দেওয়ানি মামলা ৪৯ হাজার ৭৩টি এবং ফৌজদারি মামলা ২ লাখ ২৬ হাজার ১১টি।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বর্তমানে ২১ হাজার ৬৫২টি ও হাইকোর্ট বিভাগে এক লাখ এক হাজার ১৬৮টি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দেশের অধস্তন আদালতে বর্তমানে দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি। এই মামলার মধ্যে ৫ বছরের অধিক পুরাতন মামলার সংখ্যা তিন লাখ ৭৭ হাজার ৪১৪টি।
ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে দেশের ২০টি জেলায় বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু থাকায় ওই জেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে। এই জেলাগুলোর আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের করার হার ৬২ দশমিক শূন্য ৮৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হওয়ায় বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার আইনি বাধ্যবাধকতা পর্যায়ক্রমে ঢাকাসহ দেশের সকল জেলায় কার্যকর হবে।
জামালপুর-৫ আসনের শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের আদালতগুলোতে (৩১ মার্চ ২০২৬) তিন হাজার ৬২৫টি অর্থঋণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সংরক্ষিত আসনের মাহফুজা হান্নানের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগে ৫ জন ও হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া অধস্তন আদালতে দুই হাজার ৬২০ জন বিচারকের পদের বিপরীতে এক হাজার ৯৬৪ জন কর্মরত আছেন।
বার্ষিক দুধের উৎপাদন এক কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন
কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমির উর রশিদ বলেন, বর্তমানে দেশে বার্ষিক তরল দুধ উৎপাদনের সক্ষমতা এক কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন। বার্ষিক তরল দুধের চাহিদা এক কোটি ৬২ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালিবের প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমির উর রশিদ বলেন, সারাদেশে জেলের তালিকা যাচাই-বাছাই করে হালনাগাদকরণ কার্যক্রম চলমান আছে। দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৫৬৫ জন।
তিনি বলেন, বিলুপ্ত ও পরিত্যক্ত হাওর-বাওড় ও অন্যান্য জলাশয় সংস্কারপূর্বক মাছ চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের আছে। মৎস্য অধিদপ্তর ‘নির্বাচিত বাওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর ডিপিপি প্রস্তুত করেছে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের ১৫৩ ইউপি পানি সংকটাপন্ন
নরসিংদী-১ আসনের খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহী জেলার ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৫৩টি ইউনিয়নকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি অতি উচ্চ, ৪০টি উচ্চ ও ৬৬টি মধ্যম পানি সংকটাপন্ন এলাকা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সরকার বিকল্প উৎসের পানি ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে পানি সংকটাপন্ন এলাকা চিহ্নিতকরণ চলমান রাখা, অ্যাকুইফার ম্যাপিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ, গুণগত মান ও নিরাপদ উত্তোলনসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।