Image description

সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, আমি মাঝে মাঝে বলি আমার না আমাদের প্রধানমন্ত্রী যিনি আছেন (তারেক রহমান) ওনার জন্য একটু মায়া হয় আমার। কারণ, উনি যাদেরকে ওনার মতো লোক মনে করেন তারা আসলে অন্যরকম।

 

সম্প্রতি বাংলাদেশভিত্তিক এক অনলাইন প্লাটফর্মে আয়োজিত এক টকশোতে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মিতব্যয়ী পদক্ষেপ ছিল আলোচনার মূল বিষয়বস্তু।

 

মাসুদ কামাল বলেন, দেশের তিনশো সংসদ সদস্যকে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেও, তাদের মধ্য থেকে ৫০ থেকে ৬০ জনকে মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বেছে নেন। এত মানুষের মধ্য থেকে সঠিক মানুষ খুঁজে নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

 

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্যের ৫৫ হাজার টাকা বেতনের মাত্র দশ শতাংশ অর্থাৎ পাঁচ হাজার পাঁচশত টাকা যদি তারা স্বেচ্ছায় ত্যাগ করতেন, দেশের অর্থনীতির কোনো বড় পরিবর্তন হতো না। কিন্তু এর মাধ্যমে জনগণের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা যেত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কেবল রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিতে আসেননি, বরং তারা জনগণকে কিছু দিতে এসেছেন। এটি মূলত আর্থিক কোনো বিষয় নয়, বরং জনকল্যাণে কাজ করার মানসিকতার একটি বড় পরীক্ষা।

 

একজন মন্ত্রী দৈনিক মাত্র আঠারো লিটার সরকারি তেল পান, যার আর্থিক মূল্য আনুমানিক দুই হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী নিজে সরকারি গাড়ি বা তেল না নেওয়ার আহ্বান জানালেও, অন্যান্য মন্ত্রীরা দৈনিক এই সামান্য টাকা স্যাক্রিফাইস বা ত্যাগ করতে রাজি নন। যেখানে একজন প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হতে ৫ কোটি টাকা খরচ করেন, সেখানে মাত্র পঞ্চান্ন হাজার টাকা বেতনের জন্য কেউ রাজনীতি করেন না। ফলে, সরকারি গাড়ি বা তেলের সুবিধা ছাড়তে না পারাটা কোনো আর্থিক সংকট নয়, সৎ মানসিকতার ব্যাপার। আমার মনে হয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে জনকল্যাণের চেয়ে ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের মানসিকতাই বেশি প্রবল।

 

তিনি আরও বলেন, ছোট মানসিকতার লোকদেরকে বলেন না, পরবর্তীতে আপনাকে মাইন্ড করতে পারে। এই জন্য আমার মনে হয় প্রাইম মিনিস্টার অভ্যাস করানোর চেষ্টা করতেছেন। ভদ্রলোকের জন্য আসলে আমার মায়া হয়, সিরিয়াসলি মায়া হয় যে ওনার এই কথাও কেউ রাখবে না। তখন যে লোকগুলির লজ্জা-শরম একটু কম আছে, তারা বলবে যে কী দরকার!