স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পর তার দপ্তর থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি নিজ মালিকানাধীন একটি অটো রাইস মিল ৪২ কোটি টাকা বিক্রি করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নির্বাচনী হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার আরও প্রায় ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি ও ১১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সম্প্রতি মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন খবর প্রকাশের জেরে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ফয়সাল এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ সম্পত্তি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
জানা যায়, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) এড়াতে তিনি পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে লিখিতভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার, পরিচালনা এবং সার্বিক মালিকানাসহ যাবতীয় দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে পারিবারিক ব্যবসাগুলো পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পরিচালনা করছেন।
উল্লেখ্য, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সম্পদশালী পরিবার হিসেবে পরিচিত। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পাশাপাশি কৃষি, শিল্প এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারটি বহু বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
হলফনামায় উল্লেখিত ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হলো— রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড, রূপসী কৃষি খামার, রূপসী মৎস্য খামার, রূপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রূপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রূপসী প্রাণী খামার।
ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে, ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন ‘রোমা অটো রাইস মিল’ ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এই বিক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। মিলটির ক্রেতা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার গণেশপুর গ্রামের রাইস মিল ব্যবসায়ী রবিউল আলম। ২ ফেব্রুয়ারি ৪২ কোটি টাকায় মিলটি ক্রয় করার পর মালামালসহ প্রতিষ্ঠানের সব দায়িত্ব তিনি বুঝে নিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, ওই প্রতিবেদনে হলফনামার তথ্য আংশিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। হলফনামায় ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ সম্পত্তি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেদনে মাত্র ৩১ শতাংশ সম্পত্তির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পদের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। সচেতন মহলের ধারণা, ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে হলফনামায় উল্লেখিত সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি ক্রয়ের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয়। আলোচিত জমিটি ব্যক্তি হিসেবে মীর শাহে আলমের নামে নয়, বরং ‘রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড’-এর নামে ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
প্রতিমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে হীন স্বার্থে কোনো ধারণাকে সংবাদ হিসেবে প্রচার করা কখনোই সমীচীন নয়। পারসেপশন বা ধারণা কখনো সংবাদ হতে পারে না। সংবাদ হলো প্রকৃত তথ্যের নির্যাস। অসত্য তথ্য ও সম্মানহানিকর যে কোনো বর্ণনা শুধু একটি ব্যক্তি কিংবা পরিবার নয়, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এজন্য গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী এবং তার পরিবার মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে সবার জন্য স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা শতভাগ উন্মুক্ত। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপসংবাদিকতা সম্পূর্ণ নীতিহীন এবং আইনবহির্ভূত। এ ধরনের অসত্য ও ভুল সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমটি যদি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম হয়, তবে ওই গণমাধ্যমেরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। সঙ্গতকারণে সব পক্ষকেই সচেতন থাকা জরুরি। মনে রাখা উচিত, ছুড়ে দেওয়া গুলি যেমন ফেরত আনা যায় না, ঠিক তেমনি একটি ভুল সংবাদ প্রকাশের পর তা বিবৃতি কিংবা প্রতিবাদ দিয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংবিধান আমাদের যে বাক স্বাধীনতা দিয়েছে, সেখানে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার প্রতিও সমান গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা জনপ্রতিনিধির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই না করে এমন খণ্ডিত তথ্য প্রচার করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। এ ধরনের বিষয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ তথ্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।