Image description

’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের স্মারক ও আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনের দমন-নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্বোধনের কথা বলে একাধিকবার ঘোষণা দিয়েও জাদুঘরটি উন্মুক্ত করে যেতে পারেনি ইউনূস সরকার। নির্বাচিত সরকার আসার পর চালুর চেষ্টা করলেও এখনো পুরো কাজ শেষ না হওয়ায় ৫ই আগস্টের আগে উদ্বোধন করা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন ৫ই আগস্টের আগেই জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

গতকাল সরজমিন দেখা যায়, লোহার মেইন গেটের পাশে লাল ইটের দেয়ালে টানানো হয়েছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ এর লাল সাইনবোর্ড। ভাঙা দেয়ালের জায়গায় বসানো হয়েছে লোহার রডের বেড়া। বেড়া ধরে কিছুদূর গেলেই লেক রোডে কোণা ধরে জিয়া উদ্যান পর্যন্ত পুরো রাস্তায় পাশের জায়গা টিনের দেয়াল তুলে ঢেকে দেয়া হয়েছে। জাদুঘরের নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, এখনো ভেতরে কাজ চলছে। কবে খুলবে তারা কেউ জানেন না।

এদিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ভেঙে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর দাবি জানিয়েছে জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স ও শহীদ পরিবার। শুধু নামে চালু না করে জাদুঘরের কার্যক্রম পুরোপুরি কার্যকর করা এবং কোনো ষড়যন্ত্র যাতে এটি স্থবির করতে না পারে, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দিকনির্দেশনা দাবি করেছেন তারা। জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র সাবরিনা আফরোজ সেবন্তি বলেন, ‘পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ই আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার কথা ছিল।

কিন্তু আমরা জানতে পারি, গত সপ্তাহের শেষে সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা একটি সভায় জানিয়েছেন যে, তিনি জাদুঘরের নিয়োগবিধিতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন। পরিবর্তন আনার পরামর্শকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাদুঘরের চূড়ান্ত নিয়োগপ্রক্রিয়াকে কমপক্ষে আরও দুই মাস পিছিয়ে দেয়া এবং স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অযোগ্য লোকদের সংবেদনশীল প্রজেক্টে নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা চলছে। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা শুধু জাদুঘর উদ্বোধনেই বিলম্ব করাচ্ছে না, বরং এটিকে প্রশাসনিক বা কাঠামোগতভাবে পুরোপুরি অকার্যকর করতে চাইছে। এ ছাড়া জাদুঘরকে প্রশাসনিক অসহযোগিতা করা, বাজেট ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ আটকে রেখে একে অচল করে দেয়া, মানুষ যাতে সঠিক ইতিহাস না জানতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, সেই পরিকল্পনা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ৫ই আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে। তা না হলে জনগণ নিজেরাই জাদুঘর খুলে প্রবেশ করবে। এ বিষয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, আগামী ৫ই আগস্টের মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে। আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছি। এখনো কিছু কাজ বাকি। তারপরও কবে উদ্বোধন হবে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চাওয়া হবে, প্রধানমন্ত্রী যেদিন সময় দেবেন, সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এটি মোটামুটি নিশ্চিত যে, আগামী ৫ই আগস্টের আগেই জাদুঘরটির উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের পর এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী, গবেষক ও ইতিহাস-আগ্রহীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি, গাইডেড ট্যুর এবং অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব বলেছেন, উদ্বোধন সামনে রেখে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো শেষ মুহূর্তের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। প্রদর্শনীর উপকরণ সংযোজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল কনটেন্ট স্থাপনের কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই জাদুঘর সকলের জন্য উন্মুক্ত করতে পারবো।