Image description

রোদ-গরমে পুড়ছে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের রাস্তা। মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রে (আইভ্যাক) ভোর থেকেই শুরু হয়েছে দীর্ঘ সারি। কারও হাতে পাসপোর্ট, কারও চোখে উদ্বেগ। দীর্ঘ দুই বছর পর চালু হয়েছে ভারতীয় ভিসা। কিন্তু খুশির বদলে ভিসাপ্রার্থীদের চোখে-মুখে এখন শুধুই ভোগান্তির ছাপ। নামমাত্র ভিসা ফি থাকলেও ‘স্লট’ নামের এক সোনার হরিণ কিনতে গিয়ে পকেট কাটা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে লাইনের দৈর্ঘ্য। মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের। সেই দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিম আক্তার। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। উচ্চশিক্ষার জন্য যাবেন গ্রিস। বাংলাদেশে নেই গ্রিসের কোনো দূতাবাস। তাই তাকে দেশটির ভিসা সংগ্রহ করতে হবে দিল্লি গিয়ে। আগামী ১৫ জুলাই দিল্লির গ্রিস দূতাবাসে তার উপস্থিতির শেষ দিন। না যেতে পারলে বাতিল হবে কষ্টার্জিত স্কলারশিপ। অথচ তিনি এখনো ভারতের ভিসার জন্যই পাননি কোনো স্লট। মিম আক্তারের কণ্ঠে ঝরছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সুর। ‘স্লট জটিলতায় আমার পুরো ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত।’

১৫৩০ টাকার ফি, দালালদের ২৫ হাজার: ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় এখন সবচেয়ে বড় বাধা এই অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট। সাধারণ নিয়মে তা পাওয়ার কথা অনলাইনে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে এক কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা আকরাম হোসেন এসেছিলেন ভিসার মেয়াদ বাড়াতে। ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘গত ২৩ জুন আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। নতুন করে ফের আবেদন করা হয়। কিন্তু স্লট পেতে সবচেয়ে বড় ঝামেলার সম্মুখীন হচ্ছি। ভিসা ফি প্রায় ১৫৩০ টাকা। অথচ ডাবল এন্ট্রি স্লট নিতে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগে, যা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।’

ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতি দাবি রেখে এই আবেদনকারীর ভাষ্য, ‘আগে অনলাইনে আবেদন করে পরদিনই কাগজপত্র জমা দেওয়া যেত। কিন্তু এখন স্লটের ভোগান্তির কারণে সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনে ভিসা ফি বাড়ানো হোক। এরপরও এ ঝামেলা থেকে মুক্তি চাই। আগের ব্যবস্থা আবার চালু করলে আমাদের জন্য ভালো হবে।’

কঠিন হচ্ছে যাতায়াত: গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে এসেছিলেন আবুল কালাম। ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দিতে পেরেছেন। তবে পুরো প্রক্রিয়াটিকে তার কাছে বেশ জটিল মনে হয়েছে, তা সহজ করার দাবি তার। কালাম বললেন, ‘আমি আগেও ভারতে গিয়েছিলাম। কিন্তু এবারের মতো এত ঝামেলায় পড়তে হয়নি। কিছু সমস্যার কারণে এখন দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এজন্য আগের তুলনায় প্রক্রিয়াটি কঠিন মনে হচ্ছে।’

ভিসাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ইনচার্জ মতিউর রহমান জানান, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি।

তবে সুশৃঙ্খল পরিবেশের আড়ালে স্লট বাণিজ্যের যে অদৃশ্য সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তা সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। আগের মতো সহজ নিয়ম চালুর জন্য এখন ভারতীয় হাইকমিশনের দিকেই তাকিয়ে আছেন হাজারো ভুক্তভোগী।